মঙ্গলবার, ৩০ নভেম্বর ২০২১, ০২:৪০ অপরাহ্ন
শিরোনামঃ

কুমারখালীতে সত্যকে আড়াল করতে মিথ্যা মামলার অভিযোগ!

আকরামুজ্জামান আরিফ / ৯৪ বার
আপডেট সময় বৃহস্পতিবার, ৩ জুন, ২০২১, ১১:৫৭ পূর্বাহ্ন

কুষ্টিয়া প্রতিনিধিঃ কুষ্টিয়ার কুমারখালীতে দাফনের ৫ দিন পর বোনের স্বামীর বিরুদ্ধে হত্যার অভিযোগ এনে থানায় অভিযোগ দায়ের করে নিহতের ভাই। এরপর আদালতের নির্দেশে কুমারখালী থানায় আরেকটি নিয়মিত মামলা করা হয় এবং কোর্টের নির্দেশে চলতি মাসের ১৭ তারিখে কুষ্টিয়া জেলা কার্যালয়ের এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট মো.বনি আমিনের উপস্থিতিতে লাশ পুনরায় উত্তোলন করা হয় এবং ময়না তদন্তের পর নিহতের লাশ দাফন সম্পন্ন হয়। এ বিষয়ে নিহতের স্বামীর অভিযোগ, আমার স্ত্রী তার ভাইদের কাছে পাওনা টাকা ফেরৎ আনতে গিয়েছিল। সেখানে কি এমন ঘটনা ঘটেছে যে স্ত্রীর আত্মহত্যার ঘটনা ঘটায়।

আমার দাবি স্ত্রীর ভায়েরা টাকার লোভে তাদের বোনকে শ্বাসরোধ করে হত্যা করেছে। স্ত্রীকে দাফন করার সময় কোন রকম বাধা প্রদান করা হলো না। দাফনের কিছুদিন পরে তার ভাইদের কাছে পাওয়া টাকা চাওয়ায় মামলা আমাকে স্ত্রী হত্যার আসামী করা হলো। অথচ স্ত্রী মারা গেছে তার বাবার বাড়িতে।

উল্লেখ্যঃ শৈলকূপা থানার কাঁচের কোল মির্জাপুরের সাবু মিয়ার কন্যা সেলিনা আক্তার শিলার সাথে ২০০৫ সালে পারিবারিক ভাবে তাদের বিয়ে হয়। তারা দুজন বিয়ের পর ঢাকাতে অবস্থান করতেন তিনি গার্মেন্টসে চাকরি করতেন এবং তার স্ত্রী সেলিনা টেইলারিং কাজ করে প্রতিমাসে তার ভাই আবু আব্বাস জিটু মিয়ার কাছে তার বাচ্চাদের ভবিষ্যৎতের জন্য টাকা পাঠাতেন। ১০ বছর ঢাকা থাকাকালীন প্রায় আড়াই লাখ টাকা পাঠায়। পরবর্তীতে তারা গ্রামের বাড়ি বাঁশগ্রাম চলে আসে। তাদের ১৩ বছরের মেয়ে ও ৮ বছরের একটি ছেলে রয়েছে।

গত এপ্রিল মাসের ২০ তারিখে তার স্ত্রী বাবার বাড়িতে গিয়ে শ্বাসকষ্ট জনিত সমস্যায় অসুস্থ হয়ে গেলে তাকে বৃত্তিপাড়া বাজারে স্থানীয় পল্লী চিকিৎসকের কাছে নিয়ে যায়। পরে শারীরিক অবস্থা সংকটাপন্ন দেখে পল্লী চিকিৎসক তাকে দ্রুত কুষ্টিয়া সদরে নিয়ে যেতে বলেন এবং কুষ্টিয়াতে নেবার পথে শিলা মারা যায়। নিহত শিলার ভাই আবু আব্বাস জিটু মিয়া দাফনের ৫ দিন পর তার বোনকে শ্বাসরোধ করে হত্যা করেছে মর্মে তার বিরুদ্ধে কুমারখালী থানায় অভিযোগ দায়ের করেন।

মুলতঃ শিলা তার ভাইয়ের কাছে পাওনা টাকা চাইতে বাবার বাড়িতে গিয়েছিল সেখানে গিয়ে অসুস্থ হয়ে মারা যায়। তিনি আরো বলেন টাকা না দেবার উদ্দেশ্য জিটু মিয়া তার বিরুদ্ধে মিথ্যা অভিযোগ দায়ের করে। এ বিষয়ে মৃতের মা আঞ্জুমান আরা বেগম বলেন, তার মেয়ে শিলা তাদের বাড়িতে থাকাকালীন ২০ এপ্রিল বেশী অসুস্থ হয়ে পরলে সকাল ১০ টার দিকে ডাক্তারের কাছে নিয়ে যান। তার জামাই শ্বাসরোধ করে মেয়েকে মেরে ফেলেছে কিনা জিজ্ঞেস করলে জানান, এটা মিথ্যা তার জামাই ছিলো না। অসুস্থ হবার ১ ঘন্টা পর আসছে।

মৃতের বোন আফরোজা আক্তার বিউটি বলেন, গলাটিপে মারতে গেলে দুজনের তো এক জায়গা থাকতে হবে। দুজন তো এক সাথেই ছিলোনা। তার বোন কুষ্টিয়াতে যাবার পথে মারা যায় সে সময় তিনি গাড়িতে ছিলেন। এ বিষয়ে পল্লী চিকিৎসক আকাম উদ্দিন বলেন, রোগী যখন তার কাছে নিয়ে আসা হয় তখন রোগীর অবস্থা খুবই খারাপ ছিলো অতিরিক্ত শ্বাসকষ্ট হচ্ছিল। তিনি রোগীর সাথের মা ও বোনকে বলেন দ্রুত কুষ্টিয়া নিয়ে যেতে এবং কুষ্টিয়া নেবার পথে মারা গেছে বলে জানতে পারি।

এ বিষয়ে নিহতের কন্যা আয়েশা আক্তার আশা বলেন, আমার মাকে হত্যা করেছে মামারা। তাদের কাছে পাওনা টাকা ফেরৎ চাইলে মামারা আমার বাবাকে ফাসাতে মামলা করেছে। পুনরায় মায়ের লাশ কবর থেকে উত্তোলন করিয়েছে এবং বাবাকে প্রতিনিয়ত প্রাণ নাশের হুমকি দিচ্ছেন। আমি তাদের বিরুদ্ধে কঠোর শাস্তির দাবি জানাচ্ছি। আমার নেশা গ্রস্থ মামা বহু বিবাহের নায়ক নিজের দোষ স্বীকার না করে আমার মাকে হত্যার পর পিতাকে ফাসাতে এসব অপকর্মে লিপ্ত হয়েছে।

আমি তাদের বিরুদ্ধে জেলা প্রশাসক ও পুলিশ সুপারের নিকট হস্তক্ষেপ কামনা করছি। বিষয়টি তদন্ত পূর্বক মূল অপরাধীকে আইনের আওতায় এনে আমাদেরকে হেনস্তা হতে রক্ষা করেন।





আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

বিস্তারিত




Theme Created By ThemesDealer.Com