শুক্রবার, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২১, ০২:১৮ অপরাহ্ন

চৌগাছায় উন্নত প্রযুক্তিতে অন্য ফসলের পাশাপাশি চাষ হচ্ছে পেঁপে

স্টাফ রিপোর্টার / ৪২ বার
আপডেট সময় সোমবার, ২ আগস্ট, ২০২১

রিয়াজুল ইসলামঃ যশোর জেলার চৌগাছা উপজেলা জুড়ে চাষ হচ্ছে উন্নত প্রযুক্তিতে পেঁপে চাষ।দেখা যাচ্ছে একটি জমিতে শিম চাষ করছে কৃষক। একই জমিরআল দিয়ে সারিবদ্ধভাবে পেঁপে গাছ লাগানো। এক একটি গাছে এক থেকে দেড় মণ করে পেঁপে ঝুলে আছে গাছে। দেখে মনে হবে এই বুঝি পেঁপের ভারে গাছ ভেঙ্গে পড়ল।

কথা হয় পাতিবিলা গ্রামের কৃষক অমিত মন্ডলের সাথে তিনি এই প্রতিবেদক কে বলেন আমরা আগে এই জমিরআল ফেলে রাখতাম।যেমন ধরেন শিম চাষ করছি অন্য ফসল এই জমিতে হচ্ছে না। কিন্তু মানুষ এখন ডিজিটাল হচ্ছে যার কারণে এই জমিরআল দিয়ে আমি পেঁপের গাছ লাগিয়ে দিয়েছি প্রচুর ফলন হয়েছে। আশা করছি শিমের চাইতে পেঁপেতে বেশি টাকা পাব।

পেঁপে বাংলাদেশের একটি অন্যতম প্রধান ফল। কাঁচা পেঁপে সবজি হিসেবে খাওয়া যায়। যশোরসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে বাণিজ্যিকভাবে পেঁপের চাষ করা হয়। পুষ্টিমানে অত্যন্ত সমৃদ্ধ এই ফল মানব দেহে রোগ প্রতিরোধে কাজ করে। পেঁপে স্বল্প মেয়াদী ফল, এর চাষের জন্য বেশি জায়গারও প্রয়োজন হয় না। বাড়ির আঙ্গিনায় দু’চারটি গাছ লাগালে তা থেকে সারা বছর সবজি ও ফল পাওয়া যায়।

আমাদের দেশের অধিকাংশ মানুষ পুষ্টির চাহিদা পূরণের জন্য শাকসবজি ও ফলমূলের উপর নির্ভর করে। তাই এ দেশে সারাবছরই বিভিন্ন ধরণের শাকসবজি ও ফলের চাষ করা হয়। বাংলাদেশে পেঁপে খুবই জনপ্রিয় ফল । শুধমাত্র ফলই নয় সবজি হিসেবেও এর ব্যাপক ব্যবহার রয়েছে।

পেঁপের ইংরেজি নাম Papaya ও বৈজ্ঞানিক নাম Carica papaya. আমাদের দেশের আবহাওয়া ও মাটি পেঁপে চাষের জন্য খুবই উপযোগী। আমাদের দেশে প্রায় সব জায়গাতেই পেঁপে জন্মায়। উপজেলার হাকিমপুর, রোস্তমপুর, জগদেশপুর, কোমলাপুর, মাশিলা, হিজলি, কুলিয়া মাঠে মাঠে পেঁপের চাষ হচ্ছে। এই উপজেলার কৃষকরা বাড়তি একটা আয় পাচ্ছে প্রতি বছর।

পেঁপের গুণাগুন ও পুষ্টি নিয়ে কথা হয় ডা. আওরোঙ্গজেবের সাথে তিনি বলেন,

পেঁপেতে প্রচুর পরিমাণ ভিটামিন এ, ভিটামিন বি, ভিটামিন সি ও আয়রন বিদ্যমান। প্রতি ১০০ গ্রাম ভক্ষণযোগ্য পাকা পেঁপেতে ৮৮.৪ ভাগ জলীয় অংশ, ০.৭ গ্রাম খনিজ, ০.৮গ্রাম আঁশ, ১.৯ গ্রাম আমিষ, ০.২ গ্রাম চর্বি, ৮.৩ গ্রাম শর্করা, ৩১.০ মি.গ্রা.লৌহ, ০.০৮ মি.গ্রা. ভিটামিন বি-১, ০.০৩ মি.গ্রা. বি-২, ৫৭.০ মি.গ্রা. ভিটামিন সি, ৮১০০ মাইক্রোগ্রাম ক্যারোটিন ও ৪২ কিলোক্যালরী খাদ্য শক্তি রয়েছে।

উপজেলা কৃষি অফিস সূএে জানযায়, ভাল ফলন পেতে হলে পেঁপেতে সময় মতো সুষম মাত্রায় সার প্রয়োগ করতে হবে। প্রতি গাছে ৪৫০ থেকে ৫০০ গ্রাম ইউরিয়া এবং ৪৫০ থেকে ৫০০ গ্রাম এমওপি সার উপরি প্রয়োগ করতে হবে।

চারা রোপণের এক মাস পর হতে প্রতিমাসে গাছ প্রতি ৫০ গ্রাম ইউরিয়া ও ৫০ গ্রাম এমওপি সার প্রয়োগ করতে হবে। গাছে ফুল আসার পর এই মাত্রা দ্বিগুণ করতে হবে। মাটিতে রসের অভাব হলে পানি সেচের ব্যবস্থা করতে হবে।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

বিস্তারিত
Theme Created By ThemesDealer.Com