মঙ্গলবার, ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২১, ০৯:৩০ পূর্বাহ্ন
শিরোনামঃ
সিলেটের পি.পি নওশাদ আহমদের সহধর্মিনীর রোগমুক্তি কামনায় মিলাদ ও দোয়া মাহফিল ইছাপুরা ইউনিয়ন পরিষদে বিট পুলিশিং সভা অনুষ্ঠিত বিশ্বনাথে ক্যান্সারে আক্রান্তের চিকিৎসা সহায়তা প্রদান করলেন প্রবাসী রাসেল আহমদ বিশ্বনাথে উপজেলা পূজা উদযাপন পরিষদের প্রতিবাদ ও বিক্ষোভ সমাবেশ নোয়াখালীতে সেটেলমেন্ট অফিসারের ২৩ বছরের কারাদণ্ড শাহজাদপুরে সৌর বিদ্যুৎ চালিত সেচ প্রকল্প বাস্তবায়নে মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত সিরাজদিখানে অবৈধ ড্রেজারে পাইপ অপসারণ রাজাপুরে স্কুলের আর্থিক অনিয়মের প্রতিবাদে ও জমি রক্ষার দাবিতে মানববন্ধন পাহাড়পুর বিষপাড়ায় পানিতে ডুবে- ডেড় বছর বয়সী শিশুর মর্মান্তিক মিত্যু ঝালকাঠিতে ১৬৯টি পূঁজা মন্ডপে প্রতিমা তৈরির কাজে কারিগররা ব্যস্ত

জলঢাকা ও ডিমলার দুই উপজেলার কৃষিজমি পানিবন্দি থেকে রক্ষার দাবী

জলঢাকা নীলফামারী প্রতিনিধি / ২৪ বার
আপডেট সময় বৃহস্পতিবার, ১৯ আগস্ট, ২০২১

হাসানুজ্জামান সিদ্দিকী হাসানঃ নীলফামারীর জলঢাকা ও ডিমলার দুই উপজেলার কৃষিজমি পানিবন্দি থেকে রক্ষার দাবী এলাকাবাসীর। এ দুই উপজেলার বুড়িতিস্তা বাঁধ এলাকার রাম ভাঙ্গা, কুটির ডাঙ্গা, সরদার হাট, পচার হাট, শালহাটি, চিড়াভিজা গোলনা, খারিজা গোলনা গ্রামের কৃষক কৃষাণী সহ এলাকাবাসীর দাবী কৃষি জমি পানি বন্ধী থেকে রক্ষা ও খাদ্য চাহিদা পূরণে পানি উন্নয়ন বোর্ডের কালিগঞ্জ বুড়ি তিস্তা ব্যারেজের গেট খুলে দেয়ার দাবী জানিয়ে এলাকাবাসী আরো বলেন, আজ আমরা ভাটি অঞ্চলের কৃষকরা বাঁচা-মরার সন্ধিক্ষণে দাঁড়িয়েছি। আমাদের দেয়ালে পিঠ ঠেকে গেছে। তাই বুড়ি তিস্তা ব্যারেজের গেট খুলে দেয়ার দাবী নিয়ে আন্দোলন সহ সবই করেছি।কিন্তু কিছুই হয়নি।

কৃষক মাকুল হোসেন ভুট্টু(৫৫) জানান, তৎকালিন পাকিস্তান সরকারের আমলে খাদ্য চাহিদা পূরনের নিশ্চয়তায় বাঁধ ও সেচ প্রকল্প বাস্তবায়নের লক্ষ্যে ১৯৬২- ৬৩ সালে মোট ১২১৭ হেক্টর জমি অধিগ্রহন করে বাঁধ, ক্যানেল ও নালা নির্মাণ করে পানি উন্নয়ন বোর্ড। সরেজমিনে গিয়ে জানাযায়, বুড়িতিস্তা নদীতে পানি আটকে (মজুত) রাখার ও সেচ কাজের জন্য ১৪ টি জল কপাট স্থাপন করে একটি ব্যারেজ নির্মাণ করা হয়েছে। এবং মজুতকৃত পানি শুস্ক মৌসুমে কৃষি সেচ কাজে ব্যবহারের জন্য বাঁধের দুই প্রান্তে বিস্তৃত এলাকাজুড়ে দুইটি ক্যালেন খনন করা হয়। যার মাধ্যমে জলঢাকা উপজেলা ৭ এবং ডিমলা উপজেলার ১০ টি মৌজার কৃষি জমিতে পানি সরবরাহের ব্যবস্থা নিশ্চিত করা হয়েছিল।সেটার সুফলও কৃষকরা একসময় পেয়েছিল।

এলাকাবাসীর সুবাস চন্দ্র রায় (৬২), বলেন, ভারতের উজানে নদীতে বাধ দেওয়ার কারনে পানি প্রবাহ কমে যাওয়ায় এবং বাংলাদেশের বুড়ি তিস্তা নদী টি প্রায মৃত হয়ে যায়। পানির উৎস না থাকায় কৃষকের জন্য নির্মিত সেচ প্রকল্পটি মুখ থুবরে পড়ে।

বুড়ি তিস্তা জনগোষ্ঠী কল্যান সমিতির সভাপতি বাদল মিয়া স্বপন জানান, সেচ প্রকল্পটি বর্তমানে অত্র এলাকার কৃষকদের কোন প্রকার সেচ সুবিধা দিতে পারে না। শুধু তাই নয় ১২১৭ হেক্টর জমির বাইরে বিস্তৃত এলাকায় জলাবদ্বতা সৃষ্টি হয় এবং ব্যাপক ফসলি জমি ও বাড়ী ঘর পানিগর্ভে নিমজ্জিত হয়ে পরে। এছাড়াও প্রকল্প শুরুর দিকে ফসল নষ্ট বাবদ আংশিক ভাবে ক্ষতি পুরনের টাকা পরিশোধ করলেও অবশিষ্ট টাকা আজও পরিশোধ করে নাই। যার ফলে ৩ হাজার হেক্টর জমির মালিকগণ তারা তাদের ফসল হারিয়ে মানবেতর জীপন যাপন করে আসছে।

সূত্রগুলো জানায়, বর্তমানে উল্লেখিত প্রকল্প এলাকায় ১,২১৫ হেক্টর জমির মধ্যে ১৬০ একর জমি বসতভিটা, সরকারি প্রতিষ্ঠান, মসজিদ-মাদ্রাসা, ঈদগাহ মাঠ রয়েছে এবং ৯৫৭ একর কৃষি জমি রয়েছে। এতে গ্রামে প্রায় ৩ হাজার পরিবারের আনুমানিক ১৫ হাজার দুস্থ অসহায় মানুষ দুর্বিসহ জীবন যাপন করছে। স্বাধীনতার পর থেকে সেচ প্রকল্পটি অকার্যকর হওয়ায় জমির মালিকগন ধান, পাট, আলু, ভুট্টা, সহ নানাবিধ কৃষিজাত ফসল উৎপাদন করে জীবন নির্বাহ সহ বাংলাদেশের খাদ্য চাহিদা পূরণে অগ্রনী ভূমিকা পালন করেছেন।

দুই উপজেলার বাসিন্দাদের দাবী পানি উন্নয়ন বোর্ড বুড়ি তিস্তার অকার্যকর সেচ প্রকল্প চালুর নামে ব্যারেজের গেট বন্ধ করে আবাদি কৃষি জমিতে জলাবদ্ধতা সৃষ্টি করছে। যার ফলে হাজার হাজার গরিব মানুষ দিন মজুরী খেটে কষ্টে জীবন যাপন করছে। প্রকল্পটি চালু হলে তাদের ও দেশের খাদ্য চাহিদা পূরণে অনেক ক্ষতি হবে বলে তারা দাবী করেন।

আশুতোষ রায় (৬৫), তছিরুল ইসলাম সহ আরো অনেকে এ প্রতিবেদককে জানিয়েছেন সেই সময়কার পাকিস্তান সরকারের পৃষ্ঠ পোষকতায় পানি উন্নয়ন বোর্ডের কতিপয় অনভিজ্ঞ কর্মকর্তা কর্মচারিগনের স্বেচ্ছাচারিতার কারনে বুড়ি তিস্তা বাঁধ সেচ প্রক্পটি জনস্বার্থে কৃষিজাত ফসল উৎপাদন করতে ব্যর্থ হলে দেশের তৎকালীন সরকারের সময় পানি উন্নয়ন বোর্ড কতৃপক্ষ ২০১০ সালে তুষকা নামক একটি বেসরকারী প্রতিষ্ঠান কে ১২১৫ হেক্টর জমি ইজারা প্রদান করে কুমির এবং জলজ প্রানী চাষ করার পরিকল্পনা গ্রহন করলে জনগনের আন্দোলন ও তোপের মুখে এবং হাইকোর্ট ডিভিশনে মামলা রায়ে তুষকার কার্যক্রম বন্ধ হয়ে যায়। সেই থেকে আজ পর্যন্ত আমরা আমাদের জমিগুলোতে চাষাবাদ করে পরম শান্তিতে দিন যাপন করে আসছি।

কিন্তু হঠাৎ করে বর্ষা মৌসুমে পানি উন্নয়ন বোর্ডের কোন রকম আলোচনা ও নোটিশ ছারাই ব্যারেজের গেট বন্দ করে পানি আটকে দেয়ায় আমাদের ফসলি জমি পানিতে ডুবে গেলে অপরিনীয় ক্ষতি এবং চাষাবাদ করতে না পারায় কষ্টে দিনাতিপাত করতে হচ্ছে আমাদের । পানি উন্নয়ন বোর্ড বুড়ি তিস্তা সেচ প্রকল্প চালুর নামে আবাদি কৃষিজমিতে জলাবদ্ধতা সৃষ্টি করছে। যার ফলে হাজার হাজার গরিব মানুষ জীবন ও জীবিকা নিয়ে দূর্ভোগে পড়েছে। প্রকল্পটি চালু হলে তাদের ও দেশের খাদ্য চাহিদা পূরণে অনেক ক্ষতি হবে। এমনি মন্তব্য ও ক্ষোভ প্রকাশ করেন।

এ বিষয়ে গোননা ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান কামরুল আলম কবির বলেন নদীর গভীরতা না থাকায় কৃষি জমি ও নদী একই জায়গায় মিশেগেছে, যারফলে বর্ষা মৌসুমে বিন্তির্ণ এলাকা সহজেই পানিতে তলিয়ে যায়। তার উপরে বুড়ি তিস্তা ব্যারেজের গেট বন্ধ করে রেখেছে পানি উন্নয়ন বোর্ড। এ সমস্যা থেকে বাঁচতে হলে নদীটি পুঃন খনন করে পানির রিজার্ভার বারাতে হবে।





আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

বিস্তারিত




Theme Created By ThemesDealer.Com