রবিবার, ০৫ ডিসেম্বর ২০২১, ০৫:৪৫ অপরাহ্ন
শিরোনামঃ

জান্নাতের পথ দেখাবে উত্তম ঋণ

রিপোর্টারের নাম / ১৩৬ বার
আপডেট সময় শনিবার, ১৯ জুন, ২০২১, ৬:৫৪ পূর্বাহ্ন

জান্নাতের পথ দেখাবে উত্তম ঋণ

লেখকঃ মোঃ আব্বাস আলীঃ কোরআন ও হাদিস অনুযায়ী ঋণ নিশ্চিত জান্নাতে নিয়ে যাবে- কিন্তু কেন? কিভাবে? সেই বিষয় আজ আলোচনায় রাখব। পবিত্র কোরআনে ইরশাদ হয়েছে- “আর ঋণ গ্রহীতা যদি অভাবগ্রস্থ হয়, তবে তাকে স্বচ্ছলতা আসা পর্যন্ত সময় দেয়া উচিত। আর যদি ক্ষমা করে দাও তবে তা তোমাদের জন্য খুবই উত্তম যদি তোমার উপলব্ধি করতে পারতে।” সূরা আল বাক্বারাহ ২: ২৮০।

নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম বর্ণনা করেছেন: “কেয়ামতের দিন এক ব্যক্তিকে আল্লাহতায়ালার সামনে আনয়ন করা হবে। আল্লাহ তাকে জিজ্ঞাসা করবেনঃ বল তুমি আমার জন্য কি পূন্য করেছ? সে বলবে হে আল্লাহ আমি এমন একটি অনু পরিমান কাজও করতে পারি নি যার প্রতিদান আমি আপনার নিকট কামনা করতে পারি। আল্লাহতায়ালা তাকে পুনরায় একই কথা জিজ্ঞেস করবেন এবং সে একই উত্তর দিবে।

আল্লাহপাক আবার জিজ্ঞেস করবেন। এবার লোকটি বলবে হে আল্লাহ একটি সামান্য কথা মনে পড়েছে। আপনি দয়া করে কিছু মালও আমাকে দিয়েছিলেন। আমি মানুষের সাথে কেনা-বেচা করতাম। বিপদগ্রস্তদের ঋণ দিতাম। আমি যখন দেখলাম যে এই লোকটি দরিদ্র এবং পরিশোধের নির্ধারিত সময়ে সে কর্য পরিশোধ করতে পারল না তখন আমি তাকে আরো কিছুদিন অবকাশ দিতাম। ধনীদের উপরও পীড়াপীড়ি করতাম না। অত্যান্ত দরিদ্র ব্যাক্তিকে ক্ষমাও করে দিতাম। তখন আল্লাহতায়ালা বলবেন তাহলে আমি তোমার পথ সহজ করব না কেনো? আমি তো সর্বাপেক্ষা বেশী সহজকারি। যাও তোমাকে মাফ করে দিলাম। তুমি বেহেশত চলে যাও”। সহীহ মুসলিম।

আরও পড়ুন>> কুষ্টিয়ায় ফের লকডাউন

যে ব্যক্তি অহংকার, গণীমতের সম্পদে খেয়ানত করা এবং ঋণ থেকে মুক্ত অবস্থায় মারা গেল, সে জান্নাতে প্রবেশ করলো”। তিরমিয। উপরোক্ত বর্ননায় ঋন দেয়া ও ঋণমুক্ত হয়ে মারা যাবার সাথে জান্নাতের নিশ্চয়তা দান করা হয়েছে।

উত্তম ঋণঃ কে সেই ব্যক্তি? যে আল্লাহকে উত্তম ঋণ প্রদান করবে, ফলে আল্লাহ তাকে দ্বিগুণ, বহুগুণ বৃদ্ধি করে দেবেন। আর আল্লাহই রিজিক সংকুচিত করেন এবং বৃদ্ধি করেন আর তোমাদেরকে তাঁর কাছেই ফিরে যেতে হবে।’ (সুরা বাকারা: আয়াত ২৪৫)

উল্লিখিত আয়াতে মহান আল্লাহকে ঋণ দেয়ার অর্থ হচ্ছে তার বান্দাদের ঋণ দিয়ে তাদের অভাব মোচন করা। কেউ যদি মহান আল্লাহর বান্দার প্রতি করুণা করে তাহলে আল্লাহ তা’আলাও তার প্রতি করুণা করবে।

রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লা-হু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন:
“কোন মুসলমান অন্য মুসলমানকে একবার ঋণ (কর্জে হাসানা) দিলে তা মহান আল্লাহর পথে সে পরিমাণ সম্পদ দু’বার সাদাক্বাহ করার সমতুল্য।”

আমি জান্নাতের দরজায় লেখা দেখেছি যে সাদাক্বাহ দিলে দশ গুণ সাওয়াব পাওয়া যায় আর ঋণ লাভমুক্ত ঋণ প্রদান করলে আঠার গুণ সাওয়াব পাওয়া যায়। অন্য এক হাদীসে এর কারণ বর্ণনা করা হয়েছে যে, সাদাক্বাহ্ প্রয়োজন না থাকা সত্ত্বেও চাওয়া হয়, আর ঋণ চাওয়া হয় শুধু প্রয়োজনের কারণেই। এটাই স্বাভাবিক অবস্থা তাছাড়া কারো প্রযোজনে পূর্ণ করে দিলে সে ব্যক্তি যে পরিমাণ খুশি হয় তা আর বলার অপেক্ষা রাখে না। এজন্য ঋণ দেয়া অনেক বেশি সাওয়াবের কাজ।

সেই সাথে প্রিয় নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম মানুষকে তাদের ঋণ পরিশোধের ব্যাপারে অনেক সতর্ক করেছেন।

আবূদল্লাহ ইবনু যুবায়র রাদিয়াল্লাহু আনহু বলেন, যুবায়র রাদিয়াল্লাহু আনহু -এর ঋণ থাকার কারণ এই ছিল যে, তাঁর নিকট কেউ যখন কোন মাল আমানত রাখতে আসতো তখন যুবায়র রাদিয়াল্লাহু আনহু বলতেন, না, এভাবে নয়’ তুমি তা আমার কাছে ঋণ হিসাবে রেখে যাও। কেননা, আমি ভয় করছি যে, তোমার মাল নষ্ট হয়ে যেতে পারে।সহীহ বোখারী ২৯০৯।

মহান আল্লাহর বাণীঃ হে মু’মিনগন! তোমরা যখন একে অন্যের সাথে নির্ধারিত সময়ের জন্য ঋনের কারবার কর তখন তা লিখে রাখবে … (২ঃ ২৮২)

ঋণের বোঝাঃ রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লা-হু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম এক ব্যক্তিকে এভাবে উপদেশ দিয়েছেন ‘গুনাহ কম করো’ তোমার মৃত্যু সহজ হবে: ঋণ কম করো, স্বাধীনভাবে জীবন-যাপন করতে পারবে। বিনা প্রয়োজনে ঋণ গ্রহণ করা এবং পাওনা পরিশোধে টাল-বাহানা করা মারাত্মক অপরাধ এবং ঋণদাতার প্রতি অকৃতজ্ঞতা প্রকাশের নামান্তর।

অন্যত্র এক হাদীসে ঋণ গ্রহণের নিন্দা করা হয়েছে এবং ঋণ গ্রহণ করা থেকে বিরত থাকতে কঠোর নির্দেশ দেয়া হয়েছে। এই দুই রকম হাদীসের মর্মার্থ হলো বিনা প্রয়োজনে ঋণ গ্রহণ করা নিন্দনীয়। সুতরাং এর থেকে বিরত থাকা উচিত।

তাই একান্ত প্রয়োজন ব্যতিত ঋণ গ্রহণ করা মোটেই ঠিক হবে না। একান্ত প্রয়োজন যেমন- জিহাদ করা, কাফনের কাপড় ক্রয় করা, লজ্জা নিবারণের কাপড় কেনা ইত্যাদি। অত্যাবশ্যকীয় প্রয়োজনে ঋণ নেয়া যেতে পারে। আর এসব ব্যাপারে ঋণ নিলে আল্লাহ তা’আলা সেই ঋণ আদায়ে সাহায্য করেন। ইব্‌ন উমর রাদিয়াল্লাহু আনহু বলেন, নির্দিষ্ট সময়ের জন্য ঋণ নিতে কোন দোষ নেই। আর শর্ত করা ব্যতীত তার পাওনা টাকার বেশী দেওয়া হলে কোন ক্ষতি নেই।

আরও পড়ুন>> করোনায় মৃত্যুপুরী হচ্ছে যশোর

রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লা-হু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: ‘যে ব্যক্তি কারো কাছে কর্জ নেয় এবং তা আদায় করার নিয়ত রাখে না, আল্লাহ তাকে ধ্বংস করে দেবেন।’ সহীহ বুখারি

‘যে ব্যক্তি ঋণ গ্রহণ করেছে কিন্তু তা পরিশোধ করার ইচ্ছা পোষণ করেনি সে ব্যক্তি চোর সাব্যস্ত হয়ে আল্লাহর কাছে উপস্থিত হবে।’ (ইবনে মাজাহ, তারগিব)

আল্লাহ তা’আলা যখন কাউকে অপমাণিত করতে চান, তখন তার ঘাড়ে ঋণের বোঝা চাপিয়ে দেন। ঋণগ্রন্থ ব্যক্তি মৃত্যুবরণ করলে তার জান্নাতে প্রবেশ হওয়ার বিষয়টি স্থগিত হয়। অর্থাৎ তার আত্মা জান্নাতে প্রবেশ করতে পারে না, যতক্ষণ না তার ঋণ আদায় করা হয়।

শহীদদের সমস্ত গুনাহ মাফ করা হয় কিন্তু ঋণ মাফ করা হয় না। ঋণ গ্রহণের ক্ষেত্রে বিলাসিতা বর্জন করা উচিত এবং মেহমান অতিথি আসলেও তাদের জন্য ঋণ করে মেহমানদারী করা ঠিক না।

যদি কোন ব্যক্তি তোমাদের কাউকে ঋণ দেয়, ঋণী ব্যক্তি যেন তাকে উপহার না দেয়। স্ত্রীর মোহরানা বাকী থাকলেও এই মোহরানাও ঋণের অন্তর্ভুক্ত হবে। তাই যে, ব্যক্তি ঋণগ্রন্থ হয়ে মৃত্যুবরণ করবে সে বড়ই দুর্ভাগা।

আবূ বুরদা (রহঃ) বলেন, আমি মদিনায় গেলাম; আবদুল্লাহ





আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

বিস্তারিত




Theme Created By ThemesDealer.Com