শুক্রবার, ০৩ ডিসেম্বর ২০২১, ০৩:৪২ পূর্বাহ্ন
শিরোনামঃ
ওই ২৪০ জনের কাউকে ছাড়ছি না: স্বাস্থ্যমন্ত্রী বিজয় দিবসে দেশের সব মানুষকে শপথ করাবেন প্রধানমন্ত্রী শ্রীলেখার খোলামেলা ফটোশুটের ভিডিও ভাইরাল জয়ের ব্যাপারে আত্মবিশ্বাসী ১০নং হরিশংকরপুর ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান খন্দকার ফারুকুজ্জামান ফরিদ যশোরে অন্ত:স্বত্তা স্ত্রী হত্যার দায়ে একজনের মৃত্যুদন্ড যশোরে ৬ তলা থেকে পড়ে শ্রমিকের মৃত্যু যশোরে মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় যুবকের মৃত্যু খাজাঞ্চি পশ্চিম ইউনিয়ন আল ইসলাহ’র কমিটি: সভাপতি মোসাদ্দিক সম্পাদক নিজাম বর্ণাঢ্য আয়োজনে বিশ্বনাথে লার্ণিং পয়েন্টের ১৭ তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী পালন চাঁদপুরে আনসার ভিডিপির বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা

জিলহজ্জ মাসের ফজিলত নিয়ে কিছু কথা

রিপোর্টারের নাম / ১৯৫ বার
আপডেট সময় বুধবার, ৭ জুলাই, ২০২১, ৭:৩৮ পূর্বাহ্ন

মোঃ আব্বাস আলীঃ “যে ব্যাক্তি জিল হজ্জ মাসের নবম তারিখে রোযা রাখবে আল্লাহ তায়ালা বিগত এক বছরের ও আগত বছরের সমপরিমান গুনাহ মাপ করে দিবেন (মুসলিম)”

জিলহজ্জ্ব মাস আরবি বার মাসের শেষ মাস। বছরের বার মাসের মধ্যে নিষিদ্ধ মাস (যুদ্ধ বিগ্রহ করা যাবে না) মুহাররম, রজব, জিলকদ ও জিলহজ্জ। আল্লাহ তায়ালার প্রেরিত রাসূল সা. এর নবুওত প্রাপ্তির পরবর্তী সময় এ মাসগুলোকে আলাদা গুরুত্ব ও মর্যাদা দিয়ে এ মাসের নামকরণকে মহিমান্বিত করা হয়। এ জিলহ্জ্জ মাসটি স্বচ্ছল মুসলিম উম্মাহর ফরজ ইবাদত হজ্জ্ব এর মাস। এ মাসেই বিশ্বের সামর্থবান মুসলিম সম্প্রদায় এক হয়ে হজ্বব্রত পালনের উদ্দেশ্যে পবিত্র মক্কা ও মদিনায় যান আল্লাহ ও তার রাসুলের নৈকট্য লাভের আশায়। জিলহজ্জ হজ্জের মাস, তাই ‍পুরো মাসই গুরুত্বপূর্ণ তবে এ মাসের প্রথম দশ দিনকে আরো অধিক গুরুত্ব দেয়া হয়েছে।

এই আসের আট তারিখে ইবরাহিম আ. প্রথম স্বপ্ন দেখেছিলেন তার পুত্র সন্তানকে কোরবানি দিতে বলা হচ্ছে এবং তিনি সন্দেহে পড়েছিলেন এটা কি সত্যি-ই আল্লাহর পক্ষ থেকে না শয়তানের পক্ষ থেকে ? তাই এ মাসের আট তারিখকে “ইউমে তারবিয়া” বলা হয়। নয় তারিখে তিনি আবার একই স্বপ্ন দেখে ছিলেন এবং বুঝতে পেরেছিলেন এটা সত্যি-ই আল্লাহর পক্ষ থেকে তাই এদিনটিকে “ইউমে আরাফা” বলা হয়। এদিনটি হাজিদের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ দিন আরাফায় “উকুফ” (অবস্থান) করা এটা হজ্জের একটি ফরজ বিধান।

হজ্জের ফরজ হচ্ছে তিনটি বাকি দুটি হচ্ছে ইহরাম পরিধান করা ও “তোয়াফে ঝিয়াদা” করা (কোরবানি করার পর যে তোয়াফ করা হয় তাকেই তোয়াফে ঝিয়াদা বলে) সুতরাং কেউ যদি “উকুফ” না করে তাহলে তার হজ্জ হবে না এবং তার উপর যদি হজ্জ ফরজ হয়ে থাকে তাহলে পরের বছর তাকে অবশ্যই আবার হজ্জ আদায় করতে হবে।

আল্লাহ তা’য়ালা পবিত্র কোরআনের সুরা ফজর এর শুরুতে কসম করে বলেছেন ১.وَالْفَجْرِ‌ ২. وَلَيَالٍ عَشْرٍ‌ অর্থ (১.) ফজরের কসম, ২.) দশটি রাতের,)হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে আব্বাস রাঃ বলেছেন وَالْفَجْرِ‌ এর দ্বারা উদ্দেশ্য হলো ফজরের নামাজ আর عَشْرٍ‌ وَلَيَالٍ এর দ্বারা উদ্দেশ্য হলো জিল হজ্জ মাসের প্রথম দশ রাত্রি তবে অধিকাংশ মুফাচ্ছিরিনে কেরার বলেছেন وَالْفَجْرِ ও‌ عَشْرٍ‌ وَلَيَالٍ এ দুটি দ্বারাই উদ্দশ্যে হচ্ছে জিল হজ্জ মাসরে প্রথম দশ রাত্রি এবং তারা এর স্বপক্ষে হযরত জাবের রা: একটি রেওয়ায়েতও পেশ করেছেন। তবে এ বিষয়ে মুফাচ্ছিরগণ একমত যে আল্লাহ তায়ালা জিল হজ্জ মাসের প্রথম দশ রাত্রের গুরুত্ব বুঝাতে চেয়েছেন তাই তিনি এর কসম খেয়েছেন।

হযরত আয়েশা রাঃ থেকে বর্ণিত তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াছাল্লাম বলেছেন : যে ব্যক্তি জিল হজ্জ মাসের প্রথম দশকের প্রত্যেক রাত্র ইবাদতে কাটালো সে যেন সারা বছর হজ্জ ও উমরাহ করে কাটালো এবং যে ব্যক্তি এ দশকে রোযা রাখলো সে যেন সারা বছরই রোযা রাখলো (মুকাশিফাতুল কুলুব)

হযরত আবু হোরায়রা রাঃ থেকে বর্ণিত অপর একটি হাদিসে তিনি বলেন : রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াছল্লাম বলেছেন : জিল হজ্জ মাসের প্রথম দশকের ইবাদতই আল্লআহর কাছে সবচে বেশি পছন্দ এমন পছন্দের আর কোন আমল নেই আর এ দশকের প্রত্যেক দিনের রোযা এক এক বছর এর সমপরিমাপ ছওয়াব ও এক এক রাত্রের ইবাদত শবে কদরের সমপরিমান (মেশকাত)

হাদিসে এসেছে যাদের কোরবানি করার সমর্থ আছে অথচ কোরবানি করছে না তারা যেন ঈদগাহে না আসে (যার সমর্থ আছে অথচ কোরবানি করছে না সে যেন ঈদগাহে না আসে)। সুতরাং আল্লাহ আমাদের যাকে যতটুক তৌফিক দিয়েছেন সে উনুযায়ী আমরা যেন এইমাস সর্ম্পকে জেনে, বুঝে আমল করতে পারি।





আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

বিস্তারিত




Theme Created By ThemesDealer.Com