রবিবার, ০৫ ডিসেম্বর ২০২১, ০৪:৪১ অপরাহ্ন
শিরোনামঃ

দুই বছরের ব্যবধানেও আইডি কার্ড পাননি জবি শিক্ষার্থীরা

জবি প্রতিনিধি / ১৫ বার
আপডেট সময় বুধবার, ২৪ নভেম্বর, ২০২১, ৯:১৭ পূর্বাহ্ন

অনুপম মল্লিক আদিত্যঃ ভর্তির দুই বছর পর এখনও জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের (জবি) ২০১৯-২০২০ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থীরা তাদের আইডি কার্ডের হার্ড কপি হাতে পায়নি। সফট কপি দেয়া হলেও বাসে বিড়ম্বনার শিকার হচ্ছেন শিক্ষার্থীরা।

শিক্ষার্থীরা জানান, বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থীরা প্রায় দুই বছর আগে ২০১৯-২০২০ সেশনে ভর্তি হলেও এখনও পর্যন্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের আইডি কার্ডের মূল কপি হাতে পাননি। করোনার কারণে বিশ্ববিদ্যালয় দীর্ঘদিন বন্ধ থাকার পর গত ৭ অক্টোবর থেকে সশরীরে সেমিস্টার ফাইনাল শুরু হলেও শিক্ষার্থীদের আইডি কার্ড সরবরাহ করা হয়নি। ইতোমধ্যে বিশ্ববিদ্যালয়টির বিভিন্ন বিভাগে দ্বিতীয় সেমিস্টারের পরীক্ষাও শুরু হয়ে গিয়েছে। প্রায় দুই বছরে প্রথম বর্ষ শেষ করে দ্বিতীয় বর্ষে পদার্পণের সময় ঘনিয়ে আসলেও বিশ্ববিদ্যালয়ের আইডি কার্ড হাতে না পাওয়ায় হতাশ শিক্ষার্থীরা।

অনুসন্ধানে জানা যায়, বিগত বছর গুলোতে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের আইডি কার্ড প্রিন্ট এর কাজটি করতো রেজিস্ট্রার দপ্তর। তবে এখন আইটি সেলকে এই দায়িত্ব দেয়া হয়েছে। কিন্তু তারা বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রারের অনুমতি ব্যতীত কাজটি করতে পারবে না। আর এই দীর্ঘ সময়েও কোনো দপ্তরই আইডি কার্ড প্রিন্ট এর উদ্যোগ নেয়নি। এ সমন্বয়হীনতার ফলেই বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রথম বর্ষের প্রায় তিন হাজার শিক্ষার্থীর কেউই আইডি কার্ডের হার্ড কপি পায়নি।

এদিকে, বিশ্ববিদ্যালয়ের আইডি কার্ড না থাকায় বিভিন্ন সময়ে ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে বলে অভিযোগ করছেন শিক্ষার্থীরা। গণপরিবহনে ভ্রমণসহ বিভিন্ন কাজে বিশ্ববিদ্যালয়ের আইডি কার্ড প্রদর্শন করে ছাত্র সুবিধা না নিতে পারায় তাদের মধ্যে ক্ষোভ বিরাজ করছে।

এর আগে গত আগস্টে বিশ্ববিদ্যালয়টির শিক্ষার্থীদের আইডি কার্ডের সফট (অনলাইন) কপি সরবরাহ করা হয়। কিন্তু বিশ্ববিদ্যালয়ের কাজ ব্যাতীত অন্য কোথাও তার ব্যবহার করা যাচ্ছেনা বলেও অভিযোগ করছেন তারা।

বিশ্ববিদ্যালয়ের একাউন্টিং বিভাগের শিক্ষার্থী জয়া নাইডু বলেন, করোনা সিচুয়েশন না থাকলে আগামী জানুয়ারীতে আমরা ৩য় বর্ষে থাকার কথা ছিলো। এতদিন পরেও বিশ্ববিদ্যালয় আমাদের আইডি কার্ড দেয়নি। ফলে আমরা অনেক কাজে আইডি কার্ডের ব্যাবহার করতে পারিনা।

বিশ্ববিদ্যালয়ের মার্কেটিং বিভাগের শিক্ষার্থী মুমিন আহমেদ সুমন বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের একমাত্র ব্যাচ আমরাই যারা বিগত ২ বছরেও আইডি কার্ড হাতে পাইনি। ফলে আমাদের প্রায় সময় বিড়ম্বনার শিকার হতে হয়।

এদিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের আইটি সেলের এক কর্মকর্তা জানান, বিশ্ববিদ্যালয়ের আইডি কার্ড প্রিন্ট এর কাজ এখন আমারা করি। ইতিপূর্বে তা রেজিস্ট্রার দপ্তর করতো। তবে রেজিস্ট্রার দপ্তর থেকে অনুমতি সাপেক্ষে নোটিশ না পেলে আমরা কাজ করতে পারবো না। বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার বলে দিলেই আমরা কাজ শুরু করতে পারবো।

বিষয়টি নিয়ে জানতে চাইলে বিশ্ববিদ্যালয়ের আইটি সেলের পরিচালক অধ্যাপক ড. উজ্জ্বল কুমার আচার্য্য বলেন, বুধবার থেকেই আইডি কার্ডের প্রিন্ট শুরু হবে। প্রায় তিন হাজার শিক্ষার্থীর আইডি কার্ড প্রিন্ট হবে। আশা করা যায়, আগামী সপ্তাহেই আমরা শিক্ষার্থীদের হাতে আইডি কার্ড তুলে দিতে পারবো।

বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার প্রকৌশলী মো. ওহিদুজ্জামান বলেন, আইটি সেল অনুমতি চাইলে অনুমতি দিয়ে দিবো। জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী হিসেবে তারা অবশ্যই আইডি কার্ড পাওয়ার যোগ্যতা রাখে এবং এটা তাদের অধিকারও। এ বিষয়ে দ্রুতই ব্যবস্থা নেয়া হবে।

এর আগে মঙ্গলবার সদরঘাটগামী বাসগুলোর পরিচালকদের সঙ্গে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের এক মিটিং এর পর শিক্ষার্থীরা নিজেদের আইডিকার্ড প্রদর্শন করে রাজধানীর বিভিন্ন স্থান থেকে আসা সদরঘাটগামী বাসে হাফ ভাড়া দেয়ার সুবিধা পাওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়েছে।





আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

বিস্তারিত




Theme Created By ThemesDealer.Com