রবিবার, ০৫ ডিসেম্বর ২০২১, ০৪:৩৮ অপরাহ্ন

পাবনায় নির্বাহী প্রকৌশলীকে প্রাণনাশের হুমকি

রিপোর্টারের নাম / ৩৩৪ বার
আপডেট সময় মঙ্গলবার, ২৪ মার্চ, ২০২০, ২:১০ অপরাহ্ন
ছবি-সংগৃহীত

নিজস্ব প্রতিবেদক, ভাঙ্গুড়া (পাবনা): পাবনা স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদফতরের(এলজিইডি) নির্বাহী প্রকৌশলী একেএম বাদশা মিয়াকে প্রাণনাশের হুমকি দিয়েছেন ঠিকাদার এবং তার ম্যানেজার। এই ঘটনায় পাবনা সদর থানায় ডায়েরি করেছেন এলজিইডি নির্বাহী প্রকৌশলী একেএম বাদশা মিয়া।
এলজিইডি আরটিআইপি-২ প্রকল্পের আওতায় পাবনার ভাঙ্গুড়া উপজেলার শরৎনগর জিসিএম-বনওয়ারিনগর জিসিএম সড়ক পুনর্বাসন কাজ করছেন পাবনা সদরের পাটিকিয়া বাড়িস্থ ঠিকাদার জিন্নাত আলী জিন্নাহ। ওই কাজে প্রায় ৩০ ট্রাক নিম্নমানের ইটের খোয়া ব্যবহার করছিল ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান। নিম্নমানের ইটের খোয়া রাস্তা নির্মাণ কাজে ব্যবহার করতে নিষেধ করায় অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ ও প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হয় এলজিইডি নির্বাহী প্রকৌশলী বাদশা মিয়াকে।
তিনি থানায় দায়ের করা জিডিতে উল্লেখ করেছেন, রাস্তাটির পুনর্বাসন কাজে ইটভাটা থেকে নিম্নমানের ইটের খোয়া ব্যবহার করা হচ্ছে এমন অভিযোগ পেয়ে তিনি ভাঙ্গুড়া উপজেলা প্রকৌশলী জাহাঙ্গীর হোসেন ও উপ-সহকারী প্রকৌশলী বাবুল আক্তার ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে নিম্নমানের ইটের খোয়া ব্যবহার করতে নিষেধ করেন। কিন্তু তাদের নিষেধ অমান্য করে ঠিকাদার নিম্নমানের খোয়া দ্বারা সড়ক নির্মাণ করছেন।
জানা যায়, ঠিকাদার জিন্নাত আলীর কাছ থেকে ইতিপূর্বেও পাবনা জেলার ঈশ্বরদী উপজেলার লক্ষীকুন্ডা এবং আতাইকুলাতে পৃথকভাবে ৩৬ ট্রাক নিম্নমানের খোয়া জব্দ করা হয়। এ বিষয়ে স্থানীয়রা জানান, দীর্ঘদিন ধরে রাস্তার কাজের খোয়াগুলো ধানুয়াঘাটা ইউনুছ আলী ডিগ্রি কলেজ মাঠে স্তুপ করে রাখা হয়েছে।এতে পরিবেশের ক্ষতি হচ্ছে।
ঠিকাদারের দাবি, কলেজ অধ্যক্ষকে টাকা দিয়েই খোয়াগুলো রাখা হয়েছে। অবশ্য অধ্যক্ষ তোরাব আলী বলেন, টাকা নয়, এলাকার কাজ তাই খোয়াগুলো রাখতে দেওয়া হয়েছে। নির্বাহী প্রকৌশলী একেএম বাদশা মিয়া বলেন, গত ১৩ মার্চ রাত ১১টার সময়ে একটি মোবাইল নাম্বার থেকে ঠিকাদার জিন্নাত আলী জিন্নাহ’র পার্টনার নজরুল ইসলাম ঝন্টু আমাকে ফোন করে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করেন। তিনি আমাকে প্রাণনাশের হুমকিও দেন।
তিনি বলেন, এ বিষয়ে ঠিকাদার জিন্নাত আলী জিন্নাহ’র সঙ্গে যোগাযোগ করলে প্রথমে তিনি বিষয়টি অস্বীকার করেন। পরে নিম্নমানের ইটের খোয়া দিয়েই কাজ বাস্তবায়ন করবেন এমন চ্যালেঞ্জ ছুঁড়ে দেন আমাকে। তিনি আরও বলেন, ইতোমধ্যে আমি ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে নিম্নমানের খোয়া দিয়ে রাস্তা নির্মাণের কাজ জেলা প্রশাসকের হস্তক্ষেপে বন্ধ করে দিয়ে এসেছি। এ ঘটনায় জীবনের নিরাপত্তা চেয়ে পাবনা সদর থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি করেছি।
এ বিষয়ে অভিযুক্ত ঠিকাদার জিন্নাত আলী জিন্নাহ’র সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, সবই মিথ্যা। নির্বাহী প্রকৌশলীর সঙ্গে সামান্য ভুল বোঝাবুঝি হয়েছে। সব ঠিক হয়ে যাবে। এদিকে ঠিকাদার জিন্নাতের পার্টনার অভিযুক্ত নজরুল ইসলাম ঝন্টুর মোবাইলে একাধিক বার কল করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেন নাই।
পাবনা সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নাসিম আহমেদ জিডির বিষয়ে সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, ‘এ বিষয়ে আইনগত পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে।





আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

বিস্তারিত




Theme Created By ThemesDealer.Com