বৃহস্পতিবার, ০২ ডিসেম্বর ২০২১, ০৮:৫৮ অপরাহ্ন
শিরোনামঃ
জয়ের ব্যাপারে আত্মবিশ্বাসী ১০নং হরিশংকরপুর ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান খন্দকার ফারুকুজ্জামান ফরিদ যশোরে অন্ত:স্বত্তা স্ত্রী হত্যার দায়ে একজনের মৃত্যুদন্ড যশোরে ৬ তলা থেকে পড়ে শ্রমিকের মৃত্যু যশোরে মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় যুবকের মৃত্যু খাজাঞ্চি পশ্চিম ইউনিয়ন আল ইসলাহ’র কমিটি: সভাপতি মোসাদ্দিক সম্পাদক নিজাম বর্ণাঢ্য আয়োজনে বিশ্বনাথে লার্ণিং পয়েন্টের ১৭ তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী পালন চাঁদপুরে আনসার ভিডিপির বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা যুক্তরাজ্য থেকে ব্যারিস্টার ডিগ্রি অর্জন ক‌রে সাড়া ফেল‌লেন নাগরপু‌রের বিশ্বনাথে মুন একাডেমীতে কেক কেটে ‘ক্লাস-ডে’ পালন জবিতে মৌলভীবাজার জেলা ছাত্রকল্যাণের নেতৃত্বে ডেনি-মোস্তাকিম

প্রায় ৫হাজার স্কুল বিক্রির নোটিশ, করোনাকালে কষ্টকর জীবনযাপন করছেন শিক্ষকগণ

রিপোর্টারের নাম / ২৯৮ বার
আপডেট সময় বুধবার, ১ জুলাই, ২০২০, ৬:১০ পূর্বাহ্ন

স্বাধীন বার্তা২৪ অনলাইন ডেস্ক: করোনাভাইরাসের প্রাদুর্ভাবে গত ১৭ মার্চ থেকে বন্ধ রয়েছে দেশের সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান। করোনা পরিস্থিতির উন্নতি না হলে আগামী সেপ্টেম্বর পর্যন্ত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকবে বলে ইঙ্গিত দিয়েছেন স্বয়ং প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। বর্তমান পরিস্থিতিতে সরকারি ও এমপিওভুক্ত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষকদের সমস্যা না হলেও ঘোর বিপদে পড়েছেন ১০ লাখ বেসরকারি শিক্ষক-কর্মচারী। বেতনের সঙ্গে প্রাইভেট টিউশনিও বন্ধ। ফলে সংকট আরো বেড়েছে।

করোনাকালের চরম অর্থনৈতিক বিপর্যয়ের কারণে বাংলাদেশে শত শত বেসরকারি কিন্ডারগার্টেন স্কুল বিক্রি করা হচ্ছে। এই তালিকায় রয়েছে অনেক বেসরকারি হাইস্কুলও। কিন্ডারগার্টেন স্কুল কর্তৃপক্ষ এবং বিভিন্ন সূত্র থেকে জানা গেছে, বর্তমানে ঢাকা ও ঢাকার বাইরের প্রায় ৫ হাজার স্কুল বিক্রির চেষ্টা চলছে। ঢাকাসহ দেশে মোট ৪০ হাজারের মতো কিন্ডারগার্টেন স্কুল রয়েছে। এসব স্কুলের শিক্ষার্থীর সংখ্যা প্রায় ১ কোটি। আর এসব স্কুলে শিক্ষক রয়েছেন ৬ লাখের বেশি।

ঢাকা মহানগরীর বিভিন্ন এলাকায় ব্যানার টানানো, পোস্টার সাটানোসহ নানাভাবে চলছে এই বিক্রির উদ্যোগ। আর এসব অনেকেরই চোখে পড়ছে নিত্যদিন। করোনার কারণে মধ্য মার্চে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান সরকারিভাবে সাময়িক বন্ধ করে দেয়ার পরে ঢাকা এবং ঢাকার বাইরের ৪০ হাজারের বেশি বেসরকারি ওইসব শিক্ষা প্রতিষ্ঠান অর্থনৈতিক সংকটে পড়ে যায়। বাংলাদেশের কিন্ডারগার্টেন স্কুল মালিকদের সংগঠন বাংলাদেশ কিন্ডারগার্টেন স্কুল এসোসিশনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, ইতিমধ্যে শত শত স্কুল স্থায়ীভাবে বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। অনেক স্কুল সামান্য দামে বিক্রিও হয়ে গেছে।

ঢাকার শান্তিবাগ এলাকার ঢাকা ক্যাডেট স্কুল নামের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানটির অধ্যক্ষ ও মালিক তার স্কুলটি বিক্রি করতে ব্যর্থ হওয়ায় স্থায়ীভাবে বন্ধ ঘোষণা করে গ্রামের বাড়িতে চলে গেছেন বলে জানিয়েছেন।

এ শুধু ঢাকার অবস্থাই নয়, ঢাকার বাইরের জেলা, উপজেলাগুলোরও বাস্তবতা এমনই। মাদারীপুর জেলা সদর থেকে একটি স্কুলের মালিক ও অধ্যক্ষ গোলাম রাব্বানী জানিয়েছেন যে, তারা স্কুল বিক্রি করতে চান।

কিন্ডারগার্টেন স্কুল পরিচালনা পর্ষদ ও মালিকদের সংগঠন বাংলাদেশ কিন্ডারগার্টেন স্কুল এসোসিশনের মহাসচিব মিজানুর রহমান সরকার জানান, করোনার কারণে অর্থনৈতিক সংকট দীর্ঘয়িত হলে অন্তত ৩০ হাজার কিন্ডারগার্টেন স্কুল স্থায়ীভাবে বন্ধ হবে বা বিক্রি হয়ে যাবে।

খুলনার পাইকগাছার ডেলুটি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীসংখ্যা ২০০। শিক্ষক-কর্মচারী রয়েছেন ১২ জন। স্কুলটির প্রধান শিক্ষক সুব্রত কুমার। তিনি বলেন, ‘স্কুলটি দুর্গম এলাকায়। তার পরও গত বছর আমরা এমপিওভুক্ত হতে পারিনি। শিক্ষকদের বেতন দিতে না পারায় বেশির ভাগ শিক্ষক পেশা পরিবর্তন করছেন। সামাজিক বিজ্ঞানের শিক্ষক আশীষ কুমার, ধর্মীয় শিক্ষক রবিউল আওয়াল রাতে মাছ ধরে দিনে বিক্রি করছেন। আমি নিজেও মাছ বিক্রি করছি। ২০ বছর ধরে শিক্ষকতা পেশায় আছি। অন্য কাজে মন সায় দেয় না।’

রাজধানীর মাটিকাটায় ১৫ বছর ধরে চলছে আইডিয়াল পাবলিক স্কুল। প্রতিষ্ঠানটির শিক্ষার্থীসংখ্যা ৩০০। শিক্ষক-কর্মচারী ২৫ জন। স্কুলটি বিক্রি করে দিতে নোটিশ টাঙানো হয়েছে। স্কুলের প্রধান শিক্ষক নারগীস আক্তার আফসোস করে বলেন, ‘প্রতি মাসে প্রতিষ্ঠানটির পেছনে আমার খরচ সোয়া এক লাখ টাকা। মার্চ মাস পর্যন্ত বাড়িভাড়া ও শিক্ষকদের বেতন পরিশোধ করেছি। এরপর আর দিতে পারছি না। বাড়িওয়ালা বলে দিয়েছেন, এক মাসের ভাড়া মওকুফ করবেন। তার পরও তো অনেক টাকা দরকার। কোথায় পাব? দেনা না বাড়িয়ে তাই স্কুলটি বিক্রি করে দেওয়ার নোটিশ দিয়েছি। ন্যূনতম দাম পেলেই বিক্রি করে দেব।’

সাভারের বাইপাইলের সৃজন সেন্ট্রাল স্কুল অ্যান্ড কলেজটিও বিক্রির নোটিশ দেওয়া হয়েছে। ওই স্কুলের প্রধান শিক্ষক শামীম ইকবাল বলেন, ‘প্রতি মাসে আমার খরচ ৮০ হাজার টাকা। ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত টিউশন ফি পেয়েছি। মার্চ পর্যন্ত বাড়িভাড়া ও শিক্ষকদের বেতন পরিশোধ করেছি। এখন আর উপায় খুঁজে পাচ্ছি না। ফলে স্কুল বিক্রির নোটিশ টাঙিয়েছি।’

রাজধানীর মাটিকাটার ব্লু বার্ড ইন্টারন্যাশনাল স্কুলের শিক্ষক মিলন হোসেন বর্তমানে ভ্যানে করে পেঁয়াজ, রসুন বিক্রি করছেন। ম্লান মুখে তিনি বলেন, ‘ফেব্রুয়ারির পর আর বেতন পাইনি। প্রাইভেট-টিউশনিও বন্ধ। চার সদস্যের পরিবার নিয়ে কিভাবে চলব? বাধ্য হয়ে তাই ফেরি করছি। আমি শিক্ষক। সরকারের কাছে আকুল আবেদন, আমাদের শিক্ষকতা পেশায় ফেরার সুযোগ দিন।’

রাজধানীর একটি কিন্ডারগার্টেন স্কুলে ১০ বছর ধরে শিক্ষকতা করেন নাছিমা খানম। কাতর কণ্ঠে তিনি বলেন, ‘আমার স্বামী মারা গেছেন বেশ আগে। এক সন্তান বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ে, আরেকজন স্কুলে। ফেব্রুয়ারির পর আর বেতন পাইনি। খেয়ে না খেয়ে বহু কষ্টে বেঁচে আছি। এলাকায় সবাই শিক্ষক হিসেবে সম্মান করেন। কারো কাছে তো হা





আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

বিস্তারিত




Theme Created By ThemesDealer.Com