শুক্রবার, ০৩ ডিসেম্বর ২০২১, ০৩:৪৩ পূর্বাহ্ন
শিরোনামঃ
ওই ২৪০ জনের কাউকে ছাড়ছি না: স্বাস্থ্যমন্ত্রী বিজয় দিবসে দেশের সব মানুষকে শপথ করাবেন প্রধানমন্ত্রী শ্রীলেখার খোলামেলা ফটোশুটের ভিডিও ভাইরাল জয়ের ব্যাপারে আত্মবিশ্বাসী ১০নং হরিশংকরপুর ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান খন্দকার ফারুকুজ্জামান ফরিদ যশোরে অন্ত:স্বত্তা স্ত্রী হত্যার দায়ে একজনের মৃত্যুদন্ড যশোরে ৬ তলা থেকে পড়ে শ্রমিকের মৃত্যু যশোরে মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় যুবকের মৃত্যু খাজাঞ্চি পশ্চিম ইউনিয়ন আল ইসলাহ’র কমিটি: সভাপতি মোসাদ্দিক সম্পাদক নিজাম বর্ণাঢ্য আয়োজনে বিশ্বনাথে লার্ণিং পয়েন্টের ১৭ তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী পালন চাঁদপুরে আনসার ভিডিপির বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা

যশোরাঞ্চলে ন্যূনতম ফিতরা ৬০ টাকা

রিপোর্টারের নাম / ৩৮৭ বার
আপডেট সময় শুক্রবার, ১ মে, ২০২০, ৬:৪৬ পূর্বাহ্ন

ডেস্ক রিপোর্টঃ যশোর ও পার্শ্ববর্তী এলাকার জন্য ফিতরা ও জাকাতের নিসাব নির্ধারণ করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার ৬ রমজান দুপুরে যশোর জেলা ইমাম পরিষদ ও জেলা ফতোয়া বোর্ড যৌথ পরামর্শ সভায় বসে। বাজারমূল্য পর্যবেক্ষণ করে সভায় সিদ্ধান্ত হয়, আটার দামে ফিতরা হবে ৬০ টাকা। আর খেজুরের দামে ৮২৫ টাকা এবং কিসমিসের দামে ফিতরা হবে এক হাজার ৩২০ টাকা। এছাড়া সভায় জাকাতের নিসাবও নির্ধারণ করা হয়। রুপার ভরি ৯৫০ টাকা হিসেবে এবার জাকাতের নিসাব ধার্য করা হয় ৪৯ হাজার ৮৭৫ টাকা।

সভায় সভাপতিত্ব করেন মাওলানা আনোয়ারুল করিম যশোরী। এতে আরো অংশ নেন মুফতি মুজিবুর রহমান, হাফেজ মাওলানা বেলায়েত হোসেন, মুফতি হাফিজুর রহমান, মাওলানা মাজহারুল ইসলাম, মুফতি আব্দুর রহমান এযাযী, মুফতি কামরুল আনোয়ার নাঈম প্রমুখ। ওদিকে গতকাল সকাল দশটায় কালীগঞ্জ ইমাম পরিষদ ও ঝিনাইদহ জেলা উলামা পরিষদের বৈঠকে একই সিদ্ধান্তে উপনীত হয়েছেন। বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন ঝিনাইদহ জেলার গন্যমান্য উলামায়ে কেরাম ও সম্মানিত ইমাম বৃন্দ।

সাদাকাতুল ফিতর কার উপর ওয়াজিব: এবং কখন ওয়াজিব: ঈদের দিন সুবহে সাদিকের সময় যার কাছে যাকাত ওয়াজিব হওয়া পরিমাণ অর্থাৎ অত্যাবশ্যকীয় আসবাব সামগ্রী, ব্যবহার্য দ্রব্যাদি, বাসগৃহ ইত্যাদি বাদ দিয়ে সাড়ে বায়ান্ন তোলা তথা ৬১২.৩৬ গ্রাম রূপা বা সাড়ে সাত তোলা অর্থাৎ, ৮৭.৪৮ গ্রাম স্বর্ণ অথবা সমমূল্যের সম্পদ থাকে তার উপর সাদাকাতুল ফিতর ওয়াজিব। এক্ষেত্রে কারো যদি ঋণ থাকে তাহলে ঋণের পরিমাণ বিয়োগ দেয়ার পর অবশিষ্ট সম্পদ হিসাব করা হবে।

অত্যাবশ্যকীয় আসবাব এর ব্যাখ্যা হলো, থাকার ঘর, পরিধানের কাপড়, ব্যবহারের গাড়ি ও অন্যান্য প্রয়োজনীয় সামগ্রী, যা সর্বদা বা মাঝে মাঝে ব্যবহার হয়, এ সবকিছুই অত্যাবশ্যকীয় আসবাব সামগ্রীর অন্তর্ভুক্ত। যেসব জিনিস বছরে একবারও ব্যবহার হয় না সেগুলো প্রয়োজনের অতিরিক্ত বলে গণ্য হবে। এমনিভাবে অবৈধ জিনিসের কোনো প্রয়োজন নেই। অতএব টি.ভি., গিটার, শোপিজ, সৌখিনতার জিনিসপত্র ইত্যাদি অতিরিক্ত বলে গণ্য হবে। উলামায়ে কিরামের জন্য কিতাব প্রয়োজনীয় সামগ্রীর অন্তর্ভুক্ত।

সাদাকাতুল ফিতরের হকদার কারা: যারা যাকাতের হকদার তারাই শুধু সাদাকাতুল ফিতরের হকদার। তবে শুধু অমুসলিম গরীবদের ক্ষেত্রে ব্যতিক্রম। অমুসলিমকে যাকাত দেয়া যায় না, সাদাকাতুল ফিতর দেয়া যায়।

যাকাত ও সাদাকাতুল ফিতরের নেসাবের মধ্যে পার্থক্য: যার ওপর যাকাত ওয়াজিব তার ওপর সাদাকাতুল ফিতরও ওয়াজিব। পার্থক্য হলো, যাকাতের নেসাবের জন্য স্বর্ণ, রূপা, নগদ টাকা ও ব্যবসায়িক মালামাল হওয়া শর্ত। কিন্তু সাদাকাতুল ফিতরের জন্য এগুলো শর্ত নয়। যে কোনো ধরণের সম্পদ নেসাব পরিমাণ, প্রয়োজনের অতিরিক্ত এবং ঋণমুক্ত হলেই সাদাকাতুল ফিতর ওয়াজিব হয়। তাছাড়া যাকাতের মধ্যে নেসাব পরিমাণ সম্পদের উপর একবছর অতিবাহিত হওয়া শর্ত, কিন্তু সাদাকাতুল ফিতরের মধ্যে এটি শর্ত নয়।

সাদাকাতুল ফিতরের পরিমাণ: সাদাকাতুল ফিতর যব, খেজুর, পনির ও কিসমিস দ্বারা আদায় করলে প্রত্যেক ফিতরার জন্য ৩ কেজি ২৬৫.৯২ গ্রাম বা তার মূল্য দান করবে। আর গম বা আটা দ্বারা দিলে পৌনে দুই সের =১৬৩২.৬৯ গ্রাম বা তার মূল্য দান করতে হবে। আর চাউল বা অন্য কিছু দ্বারা আদায় করলে এই পরিমাণ দিতে হবে, যা পৌনে দুই সের =১৬৩২.৬৯ গ্রাম গমের মূল্য সমপরিমাণ হয়। -ফাতাওয়া হিন্দিয়া : ১/১৯১। রোযা রাখতে না পারলেও সদকাতুল ফিতর ওয়াজিব রোযা না রাখলে বা না রাখতে পারলে সামর্থ্যবান হলে তার উপরও সাদাকাতুল ফিতর দেয়া ওয়াজিব। -ফাতাওয়া হিন্দিয়া : ১/১৯২ ।

সাদাকাতুল ফিতর কার কার পক্ষ থেকে আদায় করতে হয়: সাদাকাতুল ফিতর নিজের পক্ষ থেকে এবং পিতা হলে নাবালিগ সন্তানদের পক্ষ থেকে দেয়া ওয়াজিব। বালেগ সন্তান, স্ত্রী, স্বামী, মাতা-পিতা প্রমুখের পক্ষ থেকে দেয়া ওয়াজিব নয়। তবে একান্নভুক্ত পরিবার হলে তাদের পক্ষ থেকে দিয়ে দেয়া মুস্তাহাব। -ফাতাওয়া হিন্দিয়া : ১/১৯২।

ঈদগাহে যাওয়ার পূর্বেই ফিতরা দিয়ে দেয়া উত্তম: ঈদগাহে যাওয়ার পূর্বেই ফিতরা দিয়ে দেয়া উত্তম। অবশ্য নামাযের পূর্বে দিতে না পারলে পরে দিলেও চলবে। তাছাড়া রমযানে দিলেও আদায় হবে। তবে ঈদের দিনের পর বিলম্ব করা মাকরূহ।
-রদ্দুল মুহতার : ৩/৩২২ ।

একজনের ফিতরা একাধিক গরীবকে দেয়া: একজনের ফিতরা এক বা একাধিক গরীবকে দেয়া জায়েয আছে। এমনিভাবে কয়েকজনের ফিতরা একজন গরীবকে দেওয়াও জায়েয। তবে শর্ত হলো, এই পরিমাণ দেওয়া যাবে না, যার দ্বারা সে নেসাবের মালিক হয়ে যায়। -ফাতাওয়া হিন্দিয়া : ১/১৯৩।

লেখক: সহ-শিক্ষাপরিচালকঃ জামিয়া নূরিয়া আব্বাসিয়া মাদ্রাসা, খড়কি, সদর, যশোর। সূত্রঃসংগৃহীত





আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

বিস্তারিত




Theme Created By ThemesDealer.Com