মঙ্গলবার, ৩০ নভেম্বর ২০২১, ০৩:২৭ অপরাহ্ন

যশোর জেনারেল হাসপাতালের রোগীরা পড়ছে প্রতিনিয়ত চোরচক্রের কবলে

রিপোর্টারের নাম / ৯৫ বার
আপডেট সময় সোমবার, ১৫ নভেম্বর, ২০২১, ১:০৯ অপরাহ্ন

ক্রাইম রিপোর্টারঃ যশোর ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালের বিভিন্ন ওয়ার্ডে রোগীদের বেড থেকে ঔষধ, টাকা পয়সা, মোবাইল সহ বিভিন্ন দামী সরঞ্জাম সামগ্রী চুরির অভিযোগ উঠেছে। ভুক্তভোগীদের অভিযোগ দিনে রাতে রোগীর আশপাশ থেকে বেড থেকে মোবাইল সহ নানা সরঞ্জাম চুরি হচ্ছে। এমনকি ঔষধ ঠিক আছে কি না দেখে দেওয়ার নাম করে রোগীর কাছ থেকে ঔষধের প্যাকেট নিয়ে চম্পট দেয় চোর। বিভিন্ন কর্মকর্তাদের কাছে অভিযোগ করেও সুরহা মিলছে না ভুক্তভোগীদের।

সম্প্রতি এমন এক দূধর্ষ চুরির শিকার হয়ে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বেনাপোলের পুটখলীর মোজাম্মেল হক(৭১) নামের এক বীর মুক্তিযোদ্ধা। তিনি পেশায় কৃষক।

বীর মুক্তিযোদ্ধা মোজাম্মেল হক জানান, গত ১১ই নভেম্বর তিনি হৃদরোগ জনিত কারনে যশোর সদর হাসপাতালের করোনারী কেয়ার ইউনিটের তৃতীয় তলায় কেবিনের ১নং বেডে ভর্তি হন। এরি মধ্যে গত ১২ই নভেম্বর রাতে নগদ ৮ হাজার টাকা তার ব্যাগের পকেট থেকে চুরি হয়। এরপর তিনি হাসপাতাল কতৃপক্ষ এবং ওয়ার্ড কতৃপক্ষকে জানানোর পরেও কোন সুরহা পাননি বলে অভিযোগ ক্ষতিগ্রস্ত মুক্তিযোদ্ধা মোজাম্মেল হকের।

আরেক অসহায় দরিদ্র ভুক্তোভোগী শহরের বারান্দিপাড়া এলাকার নূর মহম্মদের মেয়ে জাহানারা বেগম(৬০) জানান, তিনি গত ৯ নভেম্বর সদর হাসপাতালের মহিলা সার্জারী ওয়ার্ডে ভর্তি হন। অতপর তার পরিবার অতি দরিদ্র হওয়ায় জাহানারার চিকিৎসার জন্য ঔষধ কিনতে পারছিলেন না। এমন সময় জাহানার স্বজনরা রোগী কল্যান সমিতির স্বরনাপন্ন হয়। এবং রোগী কল্যান সমিতির পক্ষ থেকে তাকে প্রায় এক হাজার দুইশত টাকা মূল্যের ঔষধ কিনে দেয়। এরি মধ্যে গত ১৩ নভেম্বর শনিবার দিনের বেলায় তার স্বজনদের কাছ থেকে ঔষধ ঠিক আছে কি না দেখে দেওয়ার নাম করে ঔষধ নিয়ে চম্পট দেয় অপরিচিত ব্যাক্তি। ভুক্তভোগী জাহানারার স্বজনরা আরো জানান হঠাৎ ঔষধ দেখতে চাওয়ায় তারা হসপিটালের কোন সেবাকর্মী ভেবে ঔষধ দেখতে দেন। আর এই সুযোগে চোর ওই এক হাজার দুইশত টাকা মূল্যের ঔষধ নিয়ে চম্পট দেয়।

এদিকে এমন এক দূধর্ষ চুরির সম্মুখীন হয়েছে যশোরের জনপ্রিয় দৈনিক সমাজের কথার ক্রাইম রিপোর্টা লাবায়ুল হক রিপন। তিনি বলেন, গত ১৭ অক্টোবর সড়ক দুর্ঘটনায় আহত হয়ে তিনি হাসপাতালের ২য় তলায় সার্জারী ওয়ার্ডে ভর্তি হন। এসময় রাত যেতে না যেতেই তার কাছে থাকা একটি মোবাইল ফোন এবং তিন হাজার নগদ টাকা মানিব্যাগ সহ চুরি হয়ে যায়।

এ বিষয়ে ওয়ার্ড গুলোর দায়িত্বে থাকা সেবিকাদের সাথে কথা বললে তারা জানান, আমরা এরকম অহরহ শুনছি। তবে যে সে এসে ঔষধ দেখতে চাইলে রোগীরা ঔষধ দিয়ে দিচ্ছে আর চোর সুযোগে দমী ঔষধ নিয়ে চম্পট দেয়। আমাদের ওয়ার্ডবয়দের নির্ধারিত পোশাক না থাকায় আমাদেরও এ বিষয়টি নজর দিতে কষ্ট হয়। আমরাও বুঝতে পারি না।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে যশোর সদর হাসপাতালের তত্বাবধায়ক ডা. আখতারুজ্জামান বলেন, আমি চুরির ব্যাপারে অভিযোগ পেয়েছি। আমি সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ সহ প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিবো। এবং আমি ইতিমধ্যে এ বিষয়ে হাসপাতালের দায়িত্বে থাকা পুলিশ সদস্যদেরও অবগত করেছি। এ ব্যাপারে দ্রুত ব্যাবস্থা নেওয়া হবে। সবথেকে আমাদের বড় সমস্যা হচ্ছে ওয়ার্ড বয়দের পোশাক নেই। যার ফলে আরো বেশি সমস্যা হচ্ছে। শীঘ্রই পোশাকের ব্যাবস্থা করা হচ্ছে।





আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

বিস্তারিত




Theme Created By ThemesDealer.Com