শুক্রবার, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২১, ০৩:৪০ অপরাহ্ন

রাশানের ছাত্র জীবন

রিপোর্টারের নাম / ৬৯ বার
আপডেট সময় রবিবার, ১ আগস্ট, ২০২১

লেখক: রাশেদ হোসেনঃ রাশান ছিলেন কৃষাণির বাবার দু” নং ছোট ছেলে তার খুবই ইচ্ছা ছিলো পড়ালেখা করে পুলিশ হবে। পড়ালেখাতে মনোযোগী ছিলেন পঞ্চম শ্রেণী পাশ করে ৬ষ্ট শ্রেণীতে ভর্তি হলেন। ভর্তি হবার কদিন পরপরেই স্যার রিশানকে পুরাতন তিনখানা বই রাশান কে দিলেন সেই বই পড়তে এবং ক্লাস করতে থাকেন। সামনে পরীক্ষা চলে আসে বেশিদিন আর নেই। বাকি বই গুলা ক্রয় করতে পারিনি এখনও বই না হলে পড়বে কেমন করে পরীক্ষা ও,বা দিবে কেমন করে।

ক্লাসে স্যার রাশানের কাছে পড়া ধরলেন? রাশান পড়া না দিতে পারাই ক্লাসের বন্ধু- বান্ধবীরা হাসি- ঠাট্টা করে তাতে করে রাশান খুবই অপমানিতহন এবং মনে কষ্ট লাগে। স্কুল ছুটি হবার আগে বাড়ি চলে যান- মা বলেন কিরে রাশান এতো সকালে স্কুল ছুটি হলো যে-? রাশান বললোঃ নাহ মা ছুটি হয়নি দু’ক্লাস করেই আমি চলে এসেছি-। মা বললোঃ কেনো বাবা-? রাশানঃ মা আমার বই নাই তো’ আব্বা আমার বই কিনি দেবেনা? আজ বইয়ের জন্য আমি পড়া দিতে নাপারাই লজ্জ্বায় ক্লাস শেষ হবার আগে চলে এলাম থেকেই কিবা হবে বই নেই ত শুধু-শুধু অপমানিত হবো বন্ধুদের কাছে সবাইর বই আছে নেই শুধু আমার।

মা’ তোর আব্বা আসুক তাকে বই কিনি দিতে বলবো? আয় বাবা- খেয়ে নে। কি রান্না করেছির মাগো? রান্না করেনি বাবা- পান্তাভাত আর ঝাঁল পেয়াজ আছে ঐ খেয়ে নে-। (পরদিন) রাশানের আব্বা রাশান কে বলছেঃ রাশান গতকাল তুই নাকি ক্লাস না করেই চলে এসেছিলির বাড়ি তোর স্যার আমাকে নালিশ করলো কেনো চলে আসলির বল? তোর আজ বাড়ি যায়গা নেই ভাত দেওয়া বন্ধ কেউযদি এর ভাত দেয় তাহলে তাকে সেই সাথে বাড়ি ছাড়া করবো? রাশান বললোঃ আমার বই কিনি দাও তাহলে স্কুল যাবো কোনোদিন ক্লাস শেষ না করে আসবোনা।

বাবা- বলে তোর বই তো আছে আর অত বই কিসে লাগবে? লাগে আব্বা আরো লাগবে? আমার কাছে টাকা পয়সা নাই থাকলে তো কিনি দেবো? যা কামাই করি তাতেই তোদের খাওয়া পরনে চলে যাই। রাশান কি আর বলবে! এভাবেই চলতে থাকে।স্কুল যেতে ইচ্ছা করেনা পাড়ার একটা মেয়ে একিই ক্লাসে লেখাপড়া করে সেই মেয়েটি রাশান কে তার বই গুলো দিয়ে বলে রাশান তুমি ক’দিন আমার বই গুলো নিয়ে পড়ো। রাশান তানাহয় পড়লাম তুমি ততদিন কি পড়বে তোমার বাবা-মা জানতে পারলে বকা,দিবে ত’তোমার। সেটা তোমাকে ভাবতে হবেনা!

বই গুলো তার হাত থেকে নিলেন সারারাত বইয়ের সব পেজ পড়ল বুঝি! বই পড়ে (পর-দিন) স্কুলে গেলেন স্যার এবার আর রাশানকে পড়া ধরলেননা!পাশের এক বান্ধবী বলে উঠলেন স্যার রাশান তো বাদ পড়ে গেছে- পড়া ধরবেননা? স্যারঃ ওতো পাঠ করতে পারবেনা ধরে কি হবে রাশান বললঃ স্যার আমি পড়াদিতে পারবো-স্যার বললো তাহলে বলো? রাশান বই বন্ধ করেই পড়াদিলেন সবাই তো পড়া শুনে অবাক! এটা কিকরে সম্ভব। স্যার, রাশান তুই তাহলে বই কিনিছির? নাহ স্যার অন্য একজনের বই, স্যার তুই ভালো মেধাবী তোর বাবা তোর বই কিনি দেয়না কেনো রে?

তোরা কি অনেক গরীব? রাশানঃ হ্যাঁ স্যার আমি গরীবের ছেলে তিনবেলা ভাত পেট ভরে খেতে পারিনা তবে স্যার আমার পড়ালেখা করতে ভালো লাগে ভাত এক অক্তর যায়গা দু’অক্ত ভাত নাখেয়েই থাকতে পারবো,,পাশের বন্ধু বলে উঠলেন স্যার দেখছেন রাশান কত ভালো ছাত্র মেধাবী প্রতিভা আছে ওর বইখাতা কলমের কোনো অভাব পড়বেনা তবেই ও,,সবের সেরা ছাত্র হয়ে উঠবে আমাদের প্রতিভা সবাইর সামনে তুচ্ছজ্ঞান হিসাবে ফুলের মত ঝরে যায় যেটা আমরা দেখেই দেখিনা সবাই যদি আমরা মিলেমিশে গরীবের পাশে দাড়াই তাদের মনের কথা শুনি তবেই বাংলাদেশটা অনেক উন্নতিহতো।

সবাই তার কথা শুনে হাতে তালি দিতে লাগলো স্যার বললঃএর থেকেও অনেক অনাহারী আছে তাদের কথাও কেউত ভাবছেনা ক্লাস শেষ অনেক কথা হলো সবাই ভালো থেকে সবাই অন্যের দুখে পাশে এসে দাড়ায়েও রাশান তোমার স্বপ্নকে সার্থক করিও যতই বিপদআপদ আসুক না কেনো পড়ালেখা বাদদিবেনা? জীবনে চলারপথে কত বাঁধা আসবে পিছু পড়াযাবেনা অবিরাম (পর-দিন) যানতে পারলো সেই মেয়েটি চারদিন স্কুল বন্ধ দেওয়ার কারণে তাকে মারধোর করেছে শুনে রাশানের মনে কষ্ট লাগলো আমার জন্য মারখেলো! পর থেকে পড়া এবং প্রশ্ন খাতা লিখে আনতেন এভাবেই ক’দিন চলবে।

আবার খাতা,কলম ফুরিয়ে গেছে– আব্বার ও কোনো কাজকর্ম নেই কি যে- করবে এতো অভাবের মধ্যে পড়ালেখা কি করে করবো! আমার কি লেখাপড়া হবেনা! ঠিক করলো মাঠে কাজ করবে নিজে। বড়লোকের বাড়ি গিয়ে বলে চাচা আমার কাজে নিবেন আমি কাজ করবো? চাচা বললঃ তুই কাজ করতে পারিস? তোর কাজ করা বয়স হয়নি তুই পারবিনা। না চাচা আমি পারবো আচ্ছা কাল মাঠে যাবি সকাল ছয়টার সময় বিকাল ছয়টায় ছেড়ে দিবো খাবার আমার বাড়িতে খাবি? ঠিক আছে চাচা আমি হাজির হবানে। পর-দিন কাজে নেমে গেলো মাটি কাটা কাজে খাঁ-খাঁ রোদে কত কষ্ট হচ্ছে গলাটা শুকাইয়ে আসে কখন সময় শেষ হবে।

কাজ শেষে বাড়ি চলে এলেন গোসল করতে পুকুরে গেলেন পুকুরপাড়ে সেই মেয়ে বসে আছে। রাশান সারাদিনে কোথায় ছিলির দেখিনি তোরে রাশান বলে কাজে গেছিলাম বাবাহ কাজে গেলি বড়হয়ে গেলি আয় করা শিখেছির ভালো। রাশান পানিতে হাত দিতেই চিৎকার করে উঠলো মেয়েটি বললো কি রে- অমন করে চিৎকার দিলির কেনো? হাত জ্বলে উঠেছে তাই দেখি হাতে কি হলো? দেখলো হাতে ঠুটা উঠে গেছে– ইস একি হলো তোর হাতের সাবধানে কাজ করতে পারিসনা বোকা ছেলে? রাশানের হাতটা ধরে বুলাই দিলো। গোসল সেরে বাড়িতে যেতেই জ্বর আর জ্বর,মা এসে বললো রাশান তোর কি শরীর খারাপ হলো? সেই রকম লাগছে মা, মাথায় হাত দিয়ে দেখলো জ্বরে গা পুড়ে যাচ্ছে,,,,। পরদিন। রাশান তার শ্রমের টাকটা হাতে পেয়ে অনেক খুশি হলেন সেই টাকাটা নিয়ে বই কিনি আনলেন।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

বিস্তারিত
Theme Created By ThemesDealer.Com