শনিবার, ০৪ ডিসেম্বর ২০২১, ০২:৩৫ অপরাহ্ন

শুরু হতে যাচ্ছে অনলাইন ক্লাস, জাবি ছাত্রফ্রন্ট এর পাঁচ দফা দাবি

মাহবুবা আকবর / ২৭২ বার
আপডেট সময় মঙ্গলবার, ৭ জুলাই, ২০২০, ৬:২৯ পূর্বাহ্ন

জাবি প্রতিনিধি: সকলের অংশগ্রহন নিশ্চিত করা যায় এমন প্রস্তুতি নিয়েই কেবল অনলাইন ক্লাস শুরু করার দাবি জানিয়েছে সমাজতান্ত্রিক ছাত্রফ্রন্ট, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় শাখা।

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় এর সমাজতান্ত্রিক ছাত্রফ্রন্ট এর নেতৃবৃন্দ ক্লাস নিয়ে পাঁচ দফা দাবি প্রশাসন এর কাছে তুলে ধরেন। এগুলো হলো

১। নানাবিধ সমস্যা পেরিয়ে সকল শিক্ষার্থীর অনলাইন ক্লাসে অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে হবে। জরিপ করে প্রয়োজনীয় ডিভাইস ও ইন্টারনেট খরচ বাবদ প্রসাসন কর্তৃক শিক্ষার্থীদের আর্থিক বরাদ্দ দিতে হবে। মোবাইল অপারেটর ও আই এসপি প্রতিষ্ঠান ও সংশ্লিষ্ট মহলের সাথে যোগাযোগ করে শিক্ষার্থীদের জন্যো দেশব্যাপী স্বল্পমূল্যের ইন্টারনেট সেবার ব্যবস্থা করতে হবে।

২। অনলাইন ক্লাসে উপস্থিতির জন্য কোন মার্কসের ব্যবস্থা রাখা যাবেনা।

৩। বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ নিয়ে অনলাইন ক্লাসের পাঠদান ও মূল্যায়ন পদ্ধতির সুনির্দিষ্ট নীতিমালা ঠিক করতে হবে। শিক্ষার্থীদের শারীরিক, মানসিক, আর্থিক অবস্থার দিকগুলো বিবেচনায় আনতে হবে। শিক্ষকদের প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করতে হবে।

৪। শিক্ষার্থীরা যেনো বিভিন্ন গবেষণা এবং বিষয়ভিত্তিক বই পুস্তক অনলাইনেই পেতে পারে সে জন্য ডিজিটাল লাইব্রেরির ব্যাবস্থা করতে হবে, ইন্সটিটিউশনাল ই-মেইল সুবিধা চাল করতে হবে এবং শিক্ষার্থীরা যেন সহজে ই-কন্টেন্ট এ আক্সেস পায় তা নিশ্চিত করতে হবে।

৫। প্রত্যেক ক্লাস বিশ্ববিদ্যালইয়ের নিজস্ব সার্ভারে সঙ্গরক্ষণ করতে হবে, যেনো শিক্ষার্থীরা অন্য যেকোন সময়ে ক্লাসটি দেখে নিতে পারে।

৭ জুলাই সংবাদপত্রে প্রকাশের জন্য এক যৌথ বিবৃতিতে আহবায়ক শোভন রহমান ও সাধারণ সম্পাদক আবু সাইদ বলেন, “গত ২ জুলাই জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন অনলাইন ক্লাস শুরু করার সিদ্ধান্ত জানিয়ে একটি বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করে। করোনা ভাইরাসের প্রাদুর্ভাবে ১৯ মার্চ থেকে বন্ধ রয়েছে শিক্ষা কার্যক্রম। করোনা ভাইরাসের কারনে পারিবারিক, অর্থনৈতিক ও সামাজিক জীবনে এমনিতেই বহু প্রতিবন্ধকঅতার স্বীকার হতে হচ্ছে দেশের আপামর জনসাধারণকে। আক্রান্ত হবার আতঙ্ক, চিকিৎসা পাওয়া নিয়ে অনিশ্চয়তাঘিরে ধরেছে তাদের জীবনকে। এর প্রভাবের বাইরে নেই শীক্ষার্থীরা ও। অনেকে টিউশনি করে খরচ চালাতেন পাশাপাশি পরিবারেরো আর্থিক ব্যয় বহণ করতেন। তা সবই আজ বন্ধ। এর মধ্যে প্রস্তুতি ও আয়োজন ছাড়া মাথায় অনলাইন ক্লাস জোর করে চাপিয়ে দিলে তা শিক্ষাব্যবস্থার ক্রমবর্ধমাণ বৈষম্যকে আরও প্রকট করে তুলবে, এটা শিক্ষা গ্রহণ প্রক্রিয়ার ও সহায়ক হবে না। অনেকের জন্য ইন্টারনেট খরচ যোগানো দুরুহ হয়ে উঠবে। এই বিপর্যস্থতার মধ্যে ইতিমধ্যে অনলাইন শিক্ষাকে কেন্দ্র করে প্রাইভেট বিশবিদ্যালয় এর শিক্ষার্থীর আত্বহননের মত ঘটনা ঘটেছে। তাছাড়া প্রত্যন্ত অঞ্চল,মফস্বল,শহরগুলোতে অনেক সময় দ্রুতগতির নেটওয়ার্ক ও ইন্টারনেট সুবিধা পাওয়া যায় না। ফলে অনেক সময় তাদের জন্য ক্লাসে উপস্থিত থাকা অসম্ভব হয়ে পরে। এর জন্য উপস্থিতির নাম্বার কাটা হলে তাও হবে একটি বোঝা। তাই অনলাইন ক্লাস শুরু করবার আগে শিক্ষার্থীদের উপর জরিপ চালিয়ে তাদের সমস্যাগুলোকে চিহ্নিত করে সকঅলের অংশগ্রহণ নিশ্চিত হয় এমন পদক্ষেপ গ্রহণের পরিকল্পনা মাথায় রেখেই অনলাইন ক্লাস চালু করা উচিত। এখানে শিক্ষার্থীদের শারীরিক, মনস্তাত্বিক ও আর্থিক দিকগুলোকে অবশ্যি বিবেচনায় নিতে হবে। সেশন জ্যাম ও নানা সংকটের কথা বিবেচনায় নিয়ে আপদকালীন ব্যবস্থা হিসাবে অনলাইন শিক্ষা-কার্যক্রম একটি সম্ভাব্য উপায়, তবে অপরিকল্পিত, অপ্রস্তুত ও বৈষম্যমূলক পন্থায় প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত ও চাপ প্রয়োগের মাধ্যমে তা চালুর চেষ্টা বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর জন্য আত্বঘাতী হবে। ইউজিসি’র নির্দেশনার জন্য বসে না থেকে মার্চ মাস থেকেই আমাদের প্রসাশন অনলাইন ক্লাসের প্রস্তুতি শুরু করতে পারতো। তা না করে এখন তড়িঘড়ি করে কেবল প্রশাসনিক আদেশের মধ্যমে অনলাইন ক্লাস চালু করার চেষ্টায় আমরা উদ্বিগ্ন। এছাড়া ঘূর্ণিঝর আম্ফান ও উত্তরাঞ্চলে চলমান বন্যা পরিস্থিতির কারনে অনেকের পক্ষেই অনলাইন ক্লাসে অংশগ্রহণ এই মূহুর্তে অসম্ভব। বিশ্ববিদ্যালয় তার একজন শিক্ষার্থীকেও বৈষম্যের দিকে ঠেলে দিতে পারে না। সে তার সুযোগ সুবিধা সকল শিক্ষার্থীর জন্যই সমান ভাবে নিশ্চিত করার উদ্যোগ নিবে, এটাই প্রত্যাশা”।

নেতৃবৃন্দ আরও বলেন, “ অপরিকল্পিত কলডাউন বা ছুটির কারণে অনেক শিক্ষার্থী হল বা অন্য আবাসস্থলেই তাদের বইপত্রসহ অন্য শিক্ষা উপকরণ ফেলে রেখে বড়ি গিয়ে সেখানেই আটকা পড়েছেন। উচ্চশিক্ষার জন্য প্রয়োজনীয় উপকরণ বিশেষ করে বিষয়ভিত্তিক বইগুলো সারা দেশে পাওয়া সম্ভব নয়। এগুলো তাদের হাতে পৌছে দেবার জন্য জরুরী ভিত্তিতে গ্রন্থাগারকে অনলাইনে নিয়ে এসে আধুনিকরণ প্রয়োজন। এর বাইরে শীক্ষার্থীদের জন্য কোন ইন্সটিটিউশনাল ই-মাইল সুবিধা না থাকায় অনেক ই-কন্টেন্ট থেকেই তারা বঞ্চিত হয়। অতিদ্রু





আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

বিস্তারিত




Theme Created By ThemesDealer.Com