শুক্রবার, ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২১, ১২:০২ পূর্বাহ্ন
শিরোনামঃ
সিএনজি ভাড়া বৃদ্ধির প্রতিবাদে বিশ্বনাথে ১৫ গ্রামবাসীর স্মারকলিপি বিশ্বনাথে ব্র্যাক মাইগ্রেশন প্রোগ্রামের কর্মশালা নওগাঁর বদলগাছীতে চাষীদের মাঝে বিনামূল্যে স্প্রে মেশিন বিতরণ অনুষ্ঠিত…. ১২ কোটিরও বেশি টাকার মালিক নোয়াখালী বিআরটিএ কর্মকর্তা ফারহানুল ইসলাম! ঠাকুরগাঁওয়ে এমপি রমেশ সেনের রোগমুক্তি কামনায় দোয়া মাহফিল তিস্তার ভাঙ্গন ঠেকাতে এলাকাবাসীর নিজস্ব অর্থায়নে বাশ ও গাছ দিয়ে বান্ডাল নির্মাণ কলারোয়ায় পুলিশের সোর্স এর হামলায় র্যাব এর সোর্পদ আহত বিশ্বনাথে প্রবাসী কল্যান সমিতির কর্তৃক কোভিড-১৯ এ ক্ষতিগ্রস্তদের নগদ অর্থ প্রদান সিরাজদিখানে নিটল টাটা মটরসের গ্রাহক বন্ধু সুরক্ষা মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত রংপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের তৃতীয় বর্ষপূর্তি অনুষ্ঠিত

শেখ হাসিনার গাড়ি বহরে হামলার ঘটনায় বিস্ফোরক ও অস্ত্র আইনের মামলার বিচার দাবিতে সাতক্ষীরায় প্রতিবাদ সমাবেশ

রিপোর্টারের নাম / ১৭৪ বার
আপডেট সময় সোমবার, ৩০ আগস্ট, ২০২১

আজহারুল ইসলাম সাদী, স্টাফ রিপোর্টার:

সাতক্ষীরা’র কলারোয়ায় সাবেক বিরোধী দলীয় নেতা ও বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার গাড়িবহরে হামলার ১৯ বছর পূর্তি হল আজ, ২০০২ সালের এই দিনে শেখ হাসিনার জীবন নাশ চেষ্টায় তার গাড়িবহরে হামলার ঘটনার দীর্ঘ ১৮ বছর পার হলেও ওই ঘটনায় দায়ের করা বিস্ফোরক ও অস্ত্র সংক্রান্ত দুটি এসটিসি মামলার আজও বিচার সম্পন্ন হয়নি।

ঐতিহাসিক মামলার আসামিদের বিচার দাবিতে সাতক্ষীরা জেলা আওয়ামী লীগের এক প্রতিবাদ সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।

সোমবার (৩০ আগষ্ট) সকাল সাড়ে ১০ টার সময় সাতক্ষীরা প্রেসক্লাবের সামনে শেখ হাসিনার গাড়ি বহরে হামলার ঘটনায় বিস্ফোরক ও অস্ত্র আইনের মামলার বিচার দাবিতে সাতক্ষীরায় প্রতিবাদ সমাবেশ
অনুষ্ঠিত হয়েছে।

জেলা আওয়ামী লীগের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা সাবেক সংসদ এ কে ফজলুল হক এর সভাপতিত্বে প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখেন সাতক্ষীরা সদর আসনের সংসদ বীর মুক্তিযোদ্ধা মীর মোস্তাক আহমেদ রবি,
প্রধান বক্তা হিসেবে বক্তব্য রাখেন জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আলহাজ্ব মোঃ নজরুল ইসলাম‌।

উক্ত প্রতিবাদ সমাবেশে আরো বক্তব্য রাখেন
জেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি
সাবেক অধ্যক্ষ আবু আহমদ,
সাইদ হোসেন।

জেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ ফিরোজ কামাল শুভ্র’র সঞ্চালনায় আরো বক্তব্য রাখেন
জেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও সদর উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান আলহাজ্ব মোঃ আসাদুজ্জামান বাবু, জেলা আওয়ামী লীগের শিক্ষা বিষয়ক সম্পাদক লায়লা পারভীন সেঁজুতি, জেলা আওয়ামী লীগের ত্রাণ বিষয়ক সম্পাদক এডভোকেট মোঃ আজহারুল ইসলাম, জেলা আওয়ামী লীগের আইন বিষয়ক সম্পাদক অ্যাডভোকেট ওসমান গনি পৌর আওয়ামী লীগের সভাপতি শেখ আবু নাসের সহ যুব লীগ, তাঁতি লীগ,
ছাত্রলীগ নেতাকর্মীরা।

উক্ত প্রতিবাদি মানববন্ধনে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা, ইউনিয়ন ওয়ার্ড পর্যায়ের নেতা কর্মীরা।

উল্লেখ্য এ বিষয়ে সাতক্ষীরা বিশেষ ট্রাইব্যুনালে মামলা দুটি বিচারাধীন আছে। এছাড়া দ্রুত বিচার আইনের একটি মামলায় গত ৪ ফেব্রুয়ারি ২০২১ তারিখে সাতক্ষীরা চীফ জুড়িশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালত ৫০ জন আসামীর সকলকে বিভিন্ন মেয়াদের সাজা দেন।

তৎকালিন বিরোধী দলীয় নেতা আওয়ামী লীগ সভানেত্রী শেখ হাসিনা ২০০২ সালের ৩০ আগস্ট সাতক্ষীরা সদর হাসপাতালে আসেন কেন্দ্রীয় নেতাকর্মীদের সাথে নিয়ে। সাতক্ষীরা সদর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন কলারোয়ার একজন মুক্তিযোদ্ধার ধর্ষিতা স্ত্রীকে দেখতে এসে সান্ত্বনা দেন। এসময় শতশত মানুষ শেখ হাসিনার এই সান্ত্বনায় স্বস্তি বোধ করেন। পরে শেখ হাসিনা হাসপাতাল গেটে এক সংক্ষিপ্ত পথসভায় বিএনপি-জামায়াত জোট সরকারের কড়া সমালোচনা করে বক্তৃতা করেন।

ঐদিন বেলা ১২টার দিকে শেখ হাসিনা তার সফর সঙ্গীদের নিয়ে সাতক্ষীরার কলারোয়া হয়ে যশোরের উদ্দেশ্যে রওনা দেন। সঙ্গে ছিল সাংবাদিকদের একটি বহরও। পথিমধ্যে কলারোয়া বাজারের বিএনপি অফিসের সামনে পৌছালে তার প্রাণনাশের চেষ্টায় হামলা করে সন্ত্রাসীরা। হামলাকারীরা তাকে লক্ষ্য করে গুলি ও বোমা ছোড়ে। শেখ হাসিনাকে লক্ষ্য করে ইট পাটকেল ও জুতা স্যান্ডেল ছুড়ে মারা হয়।

হামলাকারীরা বিরোধী দলীয় নেতার গাড়ির পতাকার স্ট্যান্ড ভেঙে ফেলে। এ সময় তাঁর নিরাপত্তা কর্মীরা শেখ হাসিনাকে গাড়ির মধ্যে ঢুকিয়ে নিলেও হামলার তান্ডব চলতে থাকে। এতে শেখ হাসিনা শারিরীকভাবে অক্ষত থাকলেও তার সফরসঙ্গী নেতা কর্মীরা আহত হন। এদের মধ্যে ছিলেন ঢাকা থেকে আসা নারী নেত্রী ফাতেমা জাহান সাথী, ফটোগ্রাফার শহিদুল ইসলাম জীবন, সাতক্ষীরা জেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সভাপতি ইঞ্জিনিয়র শেখ মুজিবুর রহমান এবং বেশ কয়েকজন সাংবাদিক। হামলাকারীরা পৃথকভাবে সাংবাদিকদের ওপরও হামলা চালায়। এতে তারা আতংকিত হয়ে কলারোয়া থানায় আশ্রয় নেন। সেখানেও হামলাকারী যুবদল নেতা আশরাফ ও কাদের বাচ্চুসহ সন্ত্রাসীরা হামলা চালায়। দুই ঘন্টারও বেশি অবরুদ্ধ থাকার পর কলারোয়া থানা থেকে পুলিশের বিশেষ পাহারায় সাংবাদিকরা সাতক্ষীরায় ফিরে আসেন। এ ঘটনা নিয়ে সাতক্ষীরা প্রেসক্লাবের সাবেক সভাপতি এনটিভি ও যুগান্তরের সাতক্ষীরা প্রতিনিধি সুভাষ চৌধুরী কলারোয়া থানায় একটি মামলা করেন।

এদিকে বিরোধী দলীয় নেতা শেখ হাসিনার ওপর হামলার এই ঘটনায় কলারোয়া উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার মো: মোসলেম উদ্দিন (প্রয়াত) কলারোয়া থানায় একটি মামলা করেন। কিন্তু পুলিশ সেটি রেকর্ড না করে তা ফিরিয়ে দেয়। পরে ২ সেপ্টেম্বর বীর মুক্তিযোদ্ধা মোসলেম উদ্দিন আদালতে মামলাটি করেন। এই মামলাটিও খারিজ হয়ে যায়।

এদিকে ২০১৪ সালের ১৫ অক্টোবর হাইকোর্টের নির্দেশে কলারোয়া থানায় শেখ হাসিনার গাড়িবহরে হামলার ঘটনায় নতুন করে মামলা হয়। এই মামলায় বাদী ২৭ জন আসামীর নাম উল্লেখ করেন। তদন্তকারী কর্মকর্তা তৎকালীন সাব ইন্সপেক্টর শফিকুর রহমান তদন্ত শেষে ৫০ জনের বিরুদ্ধে চার্জশীট দেয়। বহুল আলোচিত এই মামলার বিচারে গত ৪ ফেব্রুয়ারি চিফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালত আসামীদের সর্বোচ্চ দশ বছর ও সর্ব নিম্ন তিন বছর করে কারাদন্ড দেন। দন্ডিত আসামীদের মধ্যে রয়েছেন সাবেক সংসদ সদস্য ও জেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি হাবিবুল ইসলাম হাবিব, সাতক্ষীরা জেলা আইনজীবি সমিতির সাবেক সাধারণ সম্পাদক এড. আব্দুস সাত্তার, কলারোয়ার সাবেক মেয়র মো: আকতারুজ্জামান, সাবেক যুবদল নেতা আব্দুল কাদের বাচ্চু, যুবদলের সাধারণ সম্পাদক ও সাবেক পৌর কাউন্সিলর আব্দুল কাদের বাচ্চু রয়েছেন। দন্ডিত আসামীদের একজন সম্প্রতি কারাগারেই মারা গেছেন। এছাড়া পলাতক থাকা ২জন আসামী এরই মধ্যে পুলিশের হাতে গ্রেপ্তার হয়ে কারাগারে রয়েছেন।

এদিকে একই ঘটনায় দ্রুত বিচার আইনের একটি মামলার বিচার সম্পন্ন হলেও অস্ত্র ও বিষ্ফোরক আইনে এসটিসি ২০৭/১৫ ও এসটিসি ২০৮/১৫ মামলা দু’টি সাতক্ষীরা স্পেশাল ট্রাইবুনাল তৃতীয় আদালতে বিচারাধীন।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

বিস্তারিত
Theme Created By ThemesDealer.Com