শুক্রবার, ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২১, ০১:১১ পূর্বাহ্ন
শিরোনামঃ
সিএনজি ভাড়া বৃদ্ধির প্রতিবাদে বিশ্বনাথে ১৫ গ্রামবাসীর স্মারকলিপি বিশ্বনাথে ব্র্যাক মাইগ্রেশন প্রোগ্রামের কর্মশালা নওগাঁর বদলগাছীতে চাষীদের মাঝে বিনামূল্যে স্প্রে মেশিন বিতরণ অনুষ্ঠিত…. ১২ কোটিরও বেশি টাকার মালিক নোয়াখালী বিআরটিএ কর্মকর্তা ফারহানুল ইসলাম! ঠাকুরগাঁওয়ে এমপি রমেশ সেনের রোগমুক্তি কামনায় দোয়া মাহফিল তিস্তার ভাঙ্গন ঠেকাতে এলাকাবাসীর নিজস্ব অর্থায়নে বাশ ও গাছ দিয়ে বান্ডাল নির্মাণ কলারোয়ায় পুলিশের সোর্স এর হামলায় র্যাব এর সোর্পদ আহত বিশ্বনাথে প্রবাসী কল্যান সমিতির কর্তৃক কোভিড-১৯ এ ক্ষতিগ্রস্তদের নগদ অর্থ প্রদান সিরাজদিখানে নিটল টাটা মটরসের গ্রাহক বন্ধু সুরক্ষা মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত রংপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের তৃতীয় বর্ষপূর্তি অনুষ্ঠিত

সাতমাইল পশুর হাটে ক্রেতা বিক্রেতা শুন্য, স্বাস্থ্যবিধির বালাই নাই

নিজস্ব প্রতিনিধি / ৭১ বার
আপডেট সময় রবিবার, ১৮ জুলাই, ২০২১

রাজিয়া সুলতানা প্রিয়া, নিজস্ব প্রতিনিধি: আসন্ন ঈদুল আজহাকে সামনে রেখে যশোর সদর উপজেলার বারিনগর সাতমাইল পশুর হাটে ক্রেতা ও বিক্রেতা শুন্য হয়ে পড়েছে। পশুর হাটে ছাগল দেখা গেলেও মিলেনি গরু দেখা। স্বাস্থ্যবিধি ছিলোনা চোখে পড়ার মতো।

বিক্রেতাদের দাবী বেশিরভাগ গরু, ছাগল বাড়ি থেকে বিক্রি হয়ে যাচ্ছে ফলে কেউ হাটে আসছে না। এদিকে ইজারাদাররা বলেন, একই দিনে জেলার চৌগাছা, বাঘারপাড়ায় হাট বসায় পশু বিক্রেতারা ওই সকল হাটে চলে গেছে ফলে ক্রেতা বিক্রেতা উভয়ই নাই এই সাতমাইল পশুর হাটে।

অন্যদিকে স্বাস্থ্যবিধী একেবারেই মানা হচ্ছে না এই হাটে। হাটে কারোর মুখে মাক্স বা সামাজিকর দুরুত্ব মানতে দেখা যায়নি। অথচ যখন লকডাউন শিথিল করে পশুর হাট বসানোর সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছিল, তখন সরকারের পক্ষ থেকে বলা হয়েছিল যে হাটগুলোতে কঠোরভাবে স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলতে বাধ্য করা হবে।

হাট ঘুরে দেখা যায়, ছাগলের হাটে প্রায় ৫০টি ছাগল উঠলেও গরুর হাট একেবারেই খালি। এদিকে ক্রেতা না থাকায় কঠোর রোদে হাটে বসে থেকে বিক্রি করতে না পেরে বাড়িতে চলে যেতে হচ্ছে বলে জানান বিক্রেতারা।

আরও পড়ুন>> করোনায় মৃত্যু ও আক্রান্ত বেড়েছে

এদিকে পশুরহাটের ইজারাদার সাবেক চেয়ারম্যান মোঃ আবু বক্কার বলেন পশুর হাটে আসা ক্রেতা-বিক্রেতাদের জন্য হ্যান্ড স্যানিটাইজার মাক্স ও স্যানিটেশন ব্যবস্থা আছে তারা স্বেচ্ছায় স্বাস্থ্যবিধি মানছে না পশুরহাটে সার্বিক নিরাপত্তা ব্যবস্থা তত্ত্বাবধানে রয়েছে যশোর জেলা প্রশাসন কর্তৃক আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা অন্যদিকে পশুরহাটের স্বাস্থ্য সুরক্ষা নিশ্চিত করতে রয়েছে মেডিকেল টিম হাটে জাল টাকা শনাক্তকরণের জন্য রয়েছে মেশিনের ব্যবস্থা।

এদিকে সনাক্ত করার মেশিন উপস্থিত ছিলনা ইজারাদারদের দাবি সেটি এলাকার চেয়ারম্যানের বাড়িতে রয়েছে এদিকে মেশিন ছাড়াই চলছে হাজার হাজার লক্ষ লক্ষ টাকা আদান প্রদান ফলে বেড়ে যাচ্ছে জাল টাকা ছড়ানোর ঝুঁকি। এক প্রশ্ন উত্তরে ইজারাদাররা বলেন অতি দ্রুত মেশিন টি হাটে স্থাপন পূর্বক টাকা পরীক্ষা করা হবে।

পশুরহাটে দায়িত্বরত পুলিশ কর্মকর্তা এএসআই অলিদ সাংবাদিকদের বলেন “স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলার বিষয়গুলো সবাই জানে। কিন্তু ব্যাপারগুলো মানতে তারা চরম উদাসীন। হাটের সার্বিক নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করার জন্য পুলিশ সদস্যরা টহল দিচ্ছে পাশাপাশি গরু চুরি, টাকা ইত্যাদি জাতীয় লেনদেন না হয় সেদিকে সার্বক্ষণিক নজরদারি রাখা হচ্ছে।

আরও পড়ুন>> ২০০ বছরের পশুর হাট বন্ধ

আসন্ন ঈদুল আজহাকে কেন্দ্র করে স্থাপিত কোরবানির পশুর হাটে স্বাস্থ্যবিধি লঙ্ঘনের বিষয়টি উদ্বেগজনক বলে মনে করছে স্বাস্থ্য অধিদফতর। আজ রবিবার ( ১৮ জুলাই) করোনা পরিস্থিতি নিয়ে স্বাস্থ্য অধিদফতর আয়োজিত ভার্চুয়াল বুলেটিনে অধিদফতরের মুখপাত্র অধ্যাপক ডা. নাজমুল ইসলাম এ কথা বলেন।

এক প্রশ্নের জবাবে তিনি আরও বলেন, যেখানে জনস্বাস্থ্যের বিষয়টি জড়িয়ে আছে, সেখানে আমাদের উদ্বেগের বিষয়টি বরাবরই বলি। ইতোমধ্যে সিভিল সার্জনসহ সংশ্লিষ্ট সবাইকে আমরা স্বাস্থ্যবিধি অনুসরণ করার বিষয়ে সুনির্দিষ্ট পরামর্শ দিয়েছি। যেহেতু কোরবানির পশুর হাটগুলো স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে দেখভাল করা হয়, আমরা জানি বিষয়টি নিয়ে তারাও নজরদারিতে আছেন। ক্রেতা-বিক্রেতা সবারই সচেতনতা ও দায়িত্ব বোধের বিষয়টি আমরা গুরুত্বপূর্ণ মনে করি।

অধ্যাপক নাজমুল ইসলাম বলেন, সিভিল সার্জন ও জেলা প্রশাসকদের নেতৃত্বে মনিটরিং টিম আছে। তারা তাদের মতো করে দেখ-ভাল করছেন। আমরা বিশ্বাস করি, প্রত্যেকেই আমরা দায়িত্বশীল নাগরিক। দায়িত্বের জায়গাটি তাদের মনে করিয়ে দেওয়া এবং আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীদের প্রত্যেকেরই গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা আছে। যে যার জায়গা থেকে প্রত্যেকের ভূমিকাটি যদি আমরা যথাযথভাবে পালন করি, তাহলে স্বাস্থ্যবিধির বিষয়টি আরেকটু ভালোভাবে মেনে চলা সম্ভব।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার পরিসংখ্যান তুলে ধরে তিনি বলেন, দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার দেশগুলোর মধ্যে সবচেয়ে ভালো অবস্থানে আছে ভুটান। সেখানে মাত্র দুই হাজার ৩৯৮ জনের করোনা শনাক্ত হয়েছে এবং মাত্র দুই জন মারা গেছেন।

বাংলাদেশে ২৮তম সপ্তাহে দুই লাখ ৮৪ হাজার ৪২৯টি নমুনা পরীক্ষা করে ৮৩ হাজার ৯৬ জনের করোনা শনাক্ত হয়েছে। সুস্থ হয়েছেন ৫৫ হাজার ২৪ জন, মারা গেছেন এক হাজার ৪৮০ জন। মৃত্যুর সংখ্যা ১৫ দশমিক ০৯ শতাংশ বেড়েছে। ৪১ দশমিক ৩০ শতাংশ রোগী সুস্থ হয়েছেন। শনাক্তের হার ১৩ দশমিক ৭৪ শতাংশ বেড়েছে। এ ছাড়া, এই সপ্তাহে ১৯ দশমিক ৭৭ শতাংশ বেশি নমুনা সংগ্রহ করা হয়েছে। গত সাত দিনের সংক্রমণের পরিস্থিতিতে দেখা যাচ্ছে, সংক্রমণের হার ২৯ শতাংশের উপরে থেকেছে বেশির ভাগ সময়। শুক্রবার হওয়ায় নমুনা সংগ্রহ কম থাকলেও সংক্রমণের হার ২৯ শতাংশের বেশিই ছিল। গত ৩০ দিনের সংক্রমণের যে চিত্র তাতে নিরবচ্ছিন্নভাবে আমরা সংক্রমণের ঊর্ধ্বগতি লক্ষ করেছি। শতকরা হিসেবে শনাক্তের হারও বেশি— বলেন ডা. নাজমুল।

তিনি আরও বলেন, জানুয়ারি থেকে জুলাই পর্যন্ত তুলনা করলে দেখা যায়, জানুয়ারি মাসে ২১ হাজার ৬২৯ জন রোগী শনাক্ত হয়েছিল। যা ফেব্রুয়ারিতে আরও কমে গিয়েছিল। মার্চ থেকে সংক্রমণ বাড়তে শুরু করল, এপ্রিলে বাড়ল। জুলাই মাসে এসে আজ পর্যন্ত এক লাখ ৭৯ হাজার ১৫৩ জন রোগী এ পর্যন্ত শনাক্ত হয়েছেন। সংখ্যার হিসেবে গতকাল ঢাকা বিভাগে সবচেয়ে বেশি মানুষ মারা গেছেন, সবচেয়ে কম মারা গেছেন সিলেট বিভাগে।

ঈদের কারণ দেখিয়ে বাংলাদেশে লকডাউন শিথিল করার পর এই পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে এবং এমন সময়ে এটা হচ্ছে যখন দেশটিতে প্রায় প্রতিদিনই দশ-বারো হাজার করে নতুন করোনভাইরাস রোগী শনাক্ত হচ্ছে আর দুই শতাধিক মানুষ মারা যাচ্ছে।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

বিস্তারিত
Theme Created By ThemesDealer.Com