রবিবার, ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২১, ০৭:৪০ অপরাহ্ন

সালথায় অনেক প্রতিষ্ঠানেই নেই তাপমাত্রা মাপার যন্ত্র-জরুরী আইসোলেশন অচেনা হয়ে যাওয়া শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ফিরছে চেনা রুপে অনেক শিক্ষার্থী এন্ড্রয়েড মোবাইলে আসক্ত

রিপোর্টারের নাম / ৪২ বার
আপডেট সময় রবিবার, ১২ সেপ্টেম্বর, ২০২১

মোঃ সুমন, সালথা (ফরিদপুর) সংবাদদাতা:

ফরিদপুরের সালথায় দেড় বছর পর শিক্ষা প্রতিষ্ঠান খুলে দেওয়ায় ছাত্র-ছাত্রীদের মনে বইছে ঈদের আনন্দ অচেনা হয়ে যাওয়া শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ফিরেছে চেনা রুপে। তবে অনেক শিক্ষার্থীই শ্রেনীকক্ষে ফিরেছে এন্ড্রয়েড মোবাইল হাতে এবং তুলছে সেলফি। এদিকে, শিক্ষার্থীদের শ্রেনীকক্ষে আসা উপলক্ষে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলো স্বাস্থ্যনিরাপত্তা ও পরিচ্ছন্নতার দিকে সর্বোচ্চ নজর দিয়েছে। সু-সজ্জিত করার পাশাপাশি সারিবদ্ধভাবে শিক্ষার্থীদের বরণ করতে দেখা গেছে সাড়ুকদিয়া উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষক-কর্মচারীদের ব্যাপক প্রস্তুতি। শিক্ষার্থীদের ভয়-ভীতি দূর করতে শিক্ষক-কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মাঝে দেখা যায় উৎসাহ। শিক্ষার্থীদের স্বাগত জানাতে তারা নির্দিষ্ট স্থানে অবস্থান নিয়েছেন । সারিবদ্ধভাবে শ্রেনীকক্ষে যাওয়ার অপেক্ষায় ছিল শিক্ষার্থীরাও । শিক্ষক-শিক্ষার্থী ও কর্মকর্তা-কর্মচারীসহ অভিভাবক সকলের মুখেই ছিল মাস্ক। শিক্ষার্থীরা যথাযথ স্বাস্থ্যবিধি মেনে প্রতিষ্ঠানে প্রবেশ করেছে। শ্রেণি কক্ষেও ছিল পারস্পরিক নিরাপদ দূরত্ব। এদিকে শিক্ষার্থীরাও বিশেষ করে চলতি বছরের এসএসসি ও এইচএসসি সমমানের শিক্ষার্থীদের মাঝেও এসেছে স্বস্তির নি:শ্বাস।

শিক্ষার্থীরা জানায়, এতদিন স্কুল বন্ধ ছিল বাড়ীতে বসে অস্থির হয়ে যাচ্ছিলাম। স্কুলে এসে বন্ধু-বান্ধবীদের সাথে দেখা হচ্ছে খুবই ভাল লাগছে। যদিও এসাইনমেন্ট দিয়েছি কিন্তু স্কুলের শিক্ষকদের কাছে থেকে যে শিক্ষা পেতাম সেটা থেকে বঞ্জিত ছিলাম। অনেকটা পিছিয়ে গিয়েছি। এখন আশা করি নতুন উদ্যোমে লেখা-পড়া শুরু হবে।

সরেজমিনে দেখা যায়, সালথা সরকারি কলেজেটি অধ্যক্ষ কৃষ্ণচন্দ্র বর্মন শিক্ষার্থীদের জন্য করোনার সংক্রান্ত সচেতনতা সৃষ্টি এবং আইসোলেশনের ব্যবস্থা সাজিয়েছে। তবে কলেজে শিক্ষার্থীদের উপস্থিতি আগের তুলনায় কম। তিনি বলেন, ছাত্র-ছাত্রীদের ফোন করে খোজ খবর নিচ্ছি। আশা করি সকল ছাত্র-ছাত্রী নিয়মানুযায়ী কলেজে আসবে এবং স্বাস্থ্য বিধি মেনে চলবে। তিনি আরও বলেন, শিক্ষার্থীদের মধ্যে স্বাস্থ্য-বিধি অনেকটা পরিলক্ষিত হয়েছে। প্রতি বেঞ্চে জেড পদ্ধতিতে একজন করে শিক্ষার্থীরা আসন গ্রহণ করেছে। অন্যদিকে,শিক্ষার্থীদের বেঞ্চ থেকে শিক্ষকের পাঠদানের স্থানও ছিল নিরাপদ দূরত্বে।যেহেতু দীর্ঘদিন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ ছিল তারা অনেকটাই লেখা পড়া থেকে বিছিন্ন হয়ে গিয়েছিল। শিক্ষা প্রতিষ্ঠান খুলে দেওয়ায় আমাদের খুব ভাল লাগছে।

এদিকে ১টা ২০ মিনিটের সময় যোগারদিয়া উচ্চ বিদ্যালয়ের গিয়ে দেখা যায় স্কুল বন্ধ করে চলে যাচ্ছে প্রধান শিক্ষক। সাংবাদিক দেখে অফিস কক্ষ খুললে জানতে চাই শিক্ষকগন কোথায়? প্রশ্নের সদুত্তর দিতে পারে নি তিনি। আইসোলেশন ব্যবস্থা জানতে চাইলে তারা একটি শ্রেনি কক্ষ দেখায় যেখানে নেই পরিচ্ছন্নতার বালাই।

বিভিন্ন শিক্ষা-প্রতিষ্ঠান পরিদর্শন করেছেন উপজেলা কৃষি অফিসার জীবাংশু দাশ। তিনি বলেন শিক্ষার্থীদের মাঝে খুব আনন্দ বইছে। শিক্ষকগনও যেন তাদের প্রান ফিরে পেয়েছে। যেহেতু দীর্ঘদিন স্কুল-কলেজ বন্ধ ছিল সেকারনে ছাত্র-ছাত্রীদের লেখা-পড়ায় কিছুটা অমনোযোগী হয়ে পড়তে পারে তাই অভিভাবকদের খেয়াল রাখতে হবে।

সালথা উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোহাম্মদ হাসিব সরকার সবাইকে অভিনন্দন জানিয়ে বলেন, দীর্ঘ দিন পর প্রতিটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান আবার উৎসব মুখর হয়ে উঠেছে। শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোতে স্বাস্থ্যবিধি যেন কঠোরভাবে মানা হয় পাশাপাশি প্রতিষ্ঠান পরিচালনার জন্য সরকারি সকল নির্দেশনা মেনে চলতে বলা হচ্ছে। সকল শিক্ষার্থী ও শিক্ষক ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠান সংশ্লিষ্ঠ সবার জন্য শুভ কামনা রইলো। শিক্ষার্থীদের এন্ডয়েড ব্যবহার সম্পকে তিনি বলেন, যেহেতু আমরাই শিক্ষার্থীদের এন্ডয়েড ব্যবহার করে অনলাইনে ক্লাস করতে বলেছিলাম। শিক্ষকদের নির্দেশনা দেওয়া হবে যাতে ছাত্র-ছাত্রীরা স্কুলে মেবাইল স্কুলে ব্যবহার না করে।

 


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

বিস্তারিত
Theme Created By ThemesDealer.Com